Close

Monday, March 2, 2026

যে ছবি চেতনার, প্রেরণার ও সাহসের...


যে ছবি চেতনার, প্রেরণার ও সাহসের...

দিনটি ছিল ০৯ নভেম্বর ২০২১। তখন আমি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সোনাগাজী সাথীশাখা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।


সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ খবর পেলাম- মহিলা জামায়াতের একটি প্রোগ্রামে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। জানতে পারলাম, জেলা এবং উপজেলা মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সাথে আম্মুও সেই প্রোগ্রামে উপস্থিত আছেন।

পুলিশের বহু নাটকীয়তার পর উনাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো সোনাগাজী মডেল থানায়। সাজানো হলো নাটকের প্লট, গ্রেফতার দেখানো হলো 'বিশেষ ক্ষমতা আইনে'।

সেদিন সারারাত সবাই হাজতে নির্ঘুম বসে ছিলেন। আবদুল মোমেন সাহেদ ভাই সহ আমরা থানার ভিতরে যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস ও খাবার পৌঁছে দিই। বাইরে অপেক্ষা করছিলাম আর খোঁজ খবর রাখছিলাম কোনো কিছু প্রয়োজন হয় কিনা।

যদিও আমার থানার ভিতরে যাওয়া নিষেধ ছিলো, কিন্তু সেদিন মন মানেনি। ভিতরে গিয়ে আম্মুদের সাথে দেখা করে আসলাম। তারা একটুও বিচলিত ছিলেন না, তাদের মধ্যে কোনো ভয় দেখিনি সেদিন। বরং সেদিন শহীদ মোস্তাফিজের বোন(আম্মু) সহ আন্টিদের মাঝে ঈমানের এক অদ্ভুত দৃঢ়তা লক্ষ করেছিলাম।

পরদিন সকাল ১০টায় যথারীতি কোর্টে চালান করার জন্য যখন বের হচ্ছিলেন তখন এই ছবিটি তুলি। তারপর কোর্টে জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয় ক্যাঙ্গারু কোর্ট। অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মহিলাদের কোনো কথাই শোনা হয়নি সেদিন। গ্রেফতারকৃত সকল মহিলাদের স্বামীদেরও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ার ফখরুদ্দিন নানা সেদিন ফেইসবুকে আক্ষেপ করে লিখেছিলেন-
"স্ত্রী কারাগারে, স্বামী পলাতক। এই হলো সংসার! ছেলেমেয়েরা কি করবে?"

নির্যাতনের মাত্রা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, সেই সময়ে ফেনী জেলা কারাগারে সাক্ষাৎ বন্ধ ছিলো। স্বজনদের সাথে স্বাভাবিক সাক্ষাতের যে অধিকার তা থেকে বঞ্চিত করেছিলো হাসিনার ফ্যাসিস্ট প্রশাসন। পুরো দেড় মাসে মাত্র একদিন সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলাম কামাল ভাইয়ের সহযোগিতায়।

আম্মু সেদিন স্বাভাবিক ভাবেই সবার খোঁজখবর নিলেন। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় একটুও বিচলিত ছিলেন না। নিজের সাংগঠনিক কাজ, আব্বু ও ছোটভাই-বোনদের খেয়াল রাখার বিষয়ে বললেন। চিন্তা করতে নিষেধ করলেন।

দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশী সময় ধরে এই কনকনে শীতের মধ্যে অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ মহিলাদের উপর অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন আল্লাহর আরশকে প্রকম্পিত করেছিলো। কারাগারে থেকে প্রায় সকলেই তখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

আমাদের মায়েদের উপর চলা এই অবর্ণনীয় অত্যাচারের বদৌলতে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন তার দ্বীনকে এই জমীনে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। ইনশাআল্লাহ।

- ইমাম হোসেন আরমান | ১০ নভেম্বর ২০২৫, ফেনী

1 Comments:

Imam Hossain Arman said...

Main Post- https://www.facebook.com/share/p/1a9DKFB1k8/