উপশাখা কী?
কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনস্থ শাখাসমূহের আওতায় সারা দেশের সংগঠনকে যে ক্ষুদ্রতম কর্মক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয় তাই উপশাখা। উপশাখা হচ্ছে সংগঠনের মৌলিক স্তর। যে শাখায় উপশাখাসমূহ যত বেশি শক্তিশালী, সক্রিয় ও নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম, সে শাখা তত বেশি সামগ্রিক কাজের দিক দিয়ে অগ্রগামী। আর উপশাখা যেখানে দুর্বল, সেখানে সংগঠনের গতিও শ্লথ। আর তাই উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের মাধ্যমেই একটি আদর্শের অনিবার্য বিজয় সুনিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ। আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য, করণীয় ও নিয়মিত কার্যক্রমসমূহ নিম্নোক্ত বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো-
দায়িত্বশীল
যিনি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে ময়দানের চাহিদা অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে কর্মী পরিচালনা করেন, তাকে দায়িত্বশীল বলে।
উপশাখার পরিচয়
● সংগঠন স্বীকৃত প্রাথমিক ইউনিট।
● বাস্তব কাজের ক্ষেত্র।
● Recruiting Centre.
● Supply Center.
● Production Center.
● One kind of industry.
উপশাখার গুরুত্ব
● উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে।
● রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
● প্রচুর সংখ্যক সমর্থক, বন্ধু ও সাধারণ ছাত্র উপশাখার সাথে জড়িত থাকে।
● দাওয়াতি কাজের আসল ক্ষেত্র।
● নেতৃত্ব তৈরির প্রাথমিক স্তর।
উপশাখার একটি উদাহরণ
উপশাখা হলো রশি, জাল ও সিসা সংবলিত মাছ শিকারের ১টি জালের মতো। রশি ও জাল যতই মজবুত হোক, সিসা না থাকলে যেমন কাঙ্ক্ষিত মাছ শিকার করা যায় না, অনুরূপভাবে আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিক আছে মনে হলেও উপশাখার কার্যক্রম যথাযথ না থাকলে সংগঠন দুর্বলই থেকে যায়। আদর্শ সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো মজবুত উপশাখা।
আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য
১. চেইন অব লিডারশিপ (নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা) থাকা।
২. নিয়মিত বৃদ্ধি (সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু, সুধী) হওয়া।
৩. ব্যয় অনুযায়ী আয় নিশ্চিত হওয়া।
৪. সকল ধরনের তালিকা ও রেজিস্টার আপডেটেড থাকা।
৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকা।
আদর্শ উপশাখার করণীয়
১. উপশাখার কর্মী বৈঠকে মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/থানা দায়িত্বশীলকে দেখানো।
২. প্রতিমাসে ৪টি মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। মাসের ১ম সপ্তাহে কুরআন তালিম, ২য় সপ্তাহে সামষ্টিক পাঠ, ৩য় সপ্তাহে যেকোনো একটি দাওয়াতি প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, ফলচক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, কুইজ প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম ইত্যাদি) এবং শেষ সপ্তাহে কর্মী বৈঠকের আয়োজন করা।
৩. উপশাখায় একটি দাওয়াতি গ্রুপ নিশ্চিত করে প্রতি সোমবারে গ্রুপ দাওয়াতিবার পালন করা। গ্রুপ দাওয়াতি কাজের স্থান ও সময় নির্ধারণ করে পূর্বেই অগ্রসর কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া এবং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে বাংলা কিশোর পত্রিকা, স্টিকার-কার্ড, দাওয়াতি বই বিক্রয় ও বিতরণ করা।
৪. মাসের প্রথম সপ্তাহে সকল কর্মী-সক্রিয় সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট থেকে বায়তুলমাল সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন সংগঠনের নিকট জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ ও আয় বৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। পাশাপাশি টেবিল ব্যাংক, দোকান বাক্স ও কলসের মাধ্যমে ছাত্রকল্যাণ আদায় করা।
৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের কোনো প্রোগ্রাম থাকলে সেই কর্মসূচিতে সকল কর্মী-সমর্থকদের যথাসময়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৬. মাস শেষে নির্ধারিত ফরমেটে সকল কাজের রিপোর্ট তৈরি
করা ও খাতায় ওঠানো। উপশাখা দায়িত্বশীল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট পেশ করা এবং এক কপি ঊর্ধ্বতন সংগঠনে জমা দেওয়া। দায়িত্বশীল ভাইদের পর্যালোচনা ও পরামর্শ উপশাখা রেজিস্টারের নির্ধারিত পাতায় নোট করে দায়িত্বশীল ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া।
৭. কর্মী বৃদ্ধির জন্য টার্গেটকৃত সমর্থকদের মাসের শুরুতেই (প্রথম তিন দিনের মধ্যে) রিপোর্ট বই/ফরম পৌঁছানো, মাসব্যাপী তত্ত্বাবধান, সাহচর্য প্রদান এবং মাসের শেষে ব্যক্তিগত রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করা।
৮. প্রতিমাসে পাঠাগারে বই বৃদ্ধির প্রচেষ্টা এবং জনশক্তিকে নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করা। সকল কর্মী-সমর্থকের নিকট প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি বই পৌঁছানো এবং বইটি পড়া হয়েছে কিনা তদারকি করা। প্রদানকৃত বইয়ের ইস্যু রেজিস্টার নিশ্চিত করা।
৯. উপশাখায় প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ জন কর্মী, ২ জন সমর্থক, ৩ জন বন্ধু এবং ১ জন শুভাকাঙ্ক্ষী বৃদ্ধি করা।
১০. উপশাখা রেজিস্টার খাতায় নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ করা (কার্যবিবরণী, বায়তুলমাল রিপোর্ট, জনশক্তির তালিকা ইত্যাদি)।
১১. উপশাখার প্রোগ্রামসমূহে উপস্থিত মেহমানবৃন্দের নাম ও দায়িত্ব কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা।
উপশাখা মজবুতিতে করণীয়
১. উপশাখার এরিয়া ও সামগ্রিক অবস্থা (রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক পরিবেশ) সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান রাখা।
২. ৫ম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের সকল ছাত্রদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ। এক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র, স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র, অমুসলিম ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পৃথক পৃথক তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি সকল তথ্য ও তালিকার যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
৩. ৪ ক্যাটাগরির (সিঙ্গেল ডিজিট, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, প্লেসধারী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান) ছাত্রদের মাঝে টার্গেট করে কাজ করা। পাশাপাশি সমাজের প্রভাবশালী মহলের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি।
৪. কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা ও সংগঠনের মাঝে টিম স্পিরিট সৃষ্টি।
৫. বেইজ এরিয়া তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৬. নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই আলোকে উপযুক্ত কর্মী গঠন করা।
ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি
১. ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজের সূচনা করা।
২. নিয়মিত সাক্ষাৎ ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে আস্থাভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া।
৩. সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সে সংগঠনকে পছন্দ না করলে কিংবা সংগঠনের সাথে আমার সম্পৃক্ততা জেনেও আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে দ্বিধা করবে না।
৪. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমধারা অবলম্বন করে দাওয়াত পৌঁছাতে উদ্যোগী হওয়া।
৫. দায়ীর বৈশিষ্ট্য অর্জন ও ধারণ করা।
৬. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমান্বয়ে কর্মী পর্যায়ে নিয়ে আসা।
কর্মীগঠন প্রক্রিয়া
১. যোগাযোগকারীর বৈশিষ্ট্য অর্জন
২. সাহচর্য দান
৩. মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে সাহচর্য প্রদান
৪. পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ ও সুন্দর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা
৫. ছোটোখাটো দায়িত্ব অর্পণ
৬. অর্থদানে উদ্বুদ্ধকরণ
৭. প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান
৮. দাওয়াতি কাজে সক্রিয়করণ
৯. কাজের রিপোর্ট গ্রহণ
১০. আল্লাহর নিকট দোয়া করা
উপশাখা দায়িত্বশীলের গুণাবলি
১. জ্ঞানের ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া।
২. আমল ও মুয়ামেলাতের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।
৩. নৈতিক মানে শ্রেষ্ঠ হওয়া।
৪. জনশক্তিদের (কর্মী ও সমর্থক) মধ্যে সবচাইতে আস্থাভাজন ব্যক্তি হওয়া।
৫. সবর/ধৈর্যশীল হওয়া।
৬. সাহসিকতাপূর্ণ হওয়া।
৭. জরুরি বা যেকোনো পরিস্থিতিতে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী।
৮. ভ্রাতৃত্ব ও প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা।
৯. ত্যাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী হওয়া।
১০. জনশক্তিদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা।
১১. সুবক্তা।
১২. নথিপত্র ও হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শী।
উপশাখা দায়িত্বশীলের জন্য আবশ্যক
ময়দানগত
* উপশাখার এরিয়া সর্ম্পকে জানা
* প্রতিদিন গড়ে ১ ঘন্টা সময় দেওয়া
* সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণ
* যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মবণ্টন
* উপযুক্ত তত্ত্বাবধান
* সংবাদ আদান প্রদান
* নিয়মিত দাওয়াতি কাজ করা (স্কুল, খেলার মাঠ, মেস, মসজিদ)
* দাওয়াতি উপকরণসহ এক মসজিদে আসর অন্য মসজিদে মাগরিব নামাজ আদায় করা।
জ্ঞানগত
* কুরআন-হাদিসের জ্ঞান
* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আয়ত্ত করা
* সংগঠনের স্ট্রাকচার জানা
* সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানা
আমলগত
* উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া
* আস্থাভাজন হওয়া
* ধৈর্যশীল হওয়া
* আমানতদার হওয়া
* ইনসাফ কায়েম করা
উপশাখার প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রামসমূহ ফলপ্রসূ করতে করণীয়
১. পূর্বেই বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কর্মী-সমর্থকদের ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার অনুভূতি, সাংগঠনিক বুঝ, জ্ঞানগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বিষয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
২. প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর পরিচালকের পর্যাপ্ত স্ট্যাডি করা প্রয়োজন। কুরআন-হাদিসের আলোকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে বোঝানোর বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।
৩. মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের (ওয়ার্ড/থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল) দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে।
৪. ছুটির দিনে অথবা ছাত্রদের অ্যাকাডেমিক শিডিউল বিবেচনায় নিয়ে প্রোগ্রামের সময় নির্ধারণ করা।
৫. সামর্থ্যের আলোকে আকর্ষণীয় নাস্তার আয়োজন রাখা।
৬. প্রোগ্রামগুলোকে ইফেক্টিভ করতে মাঝে মধ্যে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রতিযোগিতা/পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
৭. মাঝে মধ্যে পূর্বের প্রোগ্রামের রিভিউ নেওয়া; কতটুকু মনে রাখতে বা ধারণ করতে পারল।
৮. ন্যূনতম তিন দিন পূর্বে প্রোগ্রামের দাওয়াতি কাজ করা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা-সংক্রান্ত আলোচনা
২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা মজবুতকরণকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সাংগঠনিক সেশনের স্লোগানটিই উপশাখাকে হাইলাইটস করে নেওয়া হয়েছে। এ বছরের স্লোগান হলো-
মজবুত উপশাখা, ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ
গড়ে তুলি প্রজন্ম, সফল করি আন্দোলন
এ ছাড়াও উপশাখা সংক্রান্ত নিম্নোক্ত বিষয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যমান-
মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি-২
জনশক্তিকে সাহচর্য প্রদান, সুষম কর্মবণ্টন, প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন সম্প্রসারণ ও উপশাখা মজবুতিকরণ।
একনজরে অর্জিতব্য টার্গেটসমূহ-(সংগঠন)
সকল নিষ্ক্রিয় উপশাখাকে সক্রিয়করণ এবং নতুন করে ২৮% উপশাখা তথা ১০০০০টি উপশাখা বৃদ্ধি করা হবে।
কর্মপরিকল্পনাসমূহ
১ম দফা : দাওয়াত
১.১.৪. উপশাখাকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনের সকল স্তরে মাসে ন্যূনতম ১টি করে দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে।
১.১.৮. দাওয়াতি মিশনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে ‘যত মাঠ তত টিম’ গঠন করা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আবাসিক সংগঠনসমূহ উপশাখাভিত্তিক কমপক্ষে ১টি করে স্পোর্টস টিম গঠন নিশ্চিত করবে।
১.১.১১. সকল জনশক্তিকে দাওয়াতি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি সোমবার সাপ্তাহিক গ্রুপ দাওয়াতি বার পালন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক উপশাখা কমপক্ষে ১টি গ্রুপ বের করবে।
২য় দফা : সংগঠন
২.১.১. নতুন উপশাখা বৃদ্ধির লক্ষ্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বছরের শুরুতেই সংগঠন নেই এমন প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহের তালিকা তৈরি করে জনশক্তিদের মাঝে কাজ বণ্টন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণের মাধ্যমে টার্গেটকৃত প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহে নিয়মিত সফর, তদারকি করা ও প্রতিমাসে পর্যালোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি আবাসিক থানা প্রশাসনিক ভোটকেন্দ্রকে ভিত্তি করে উপশাখা বৃদ্ধির জন্য টার্গেট নেবেন।
২.১.২. উপশাখাসমূহের মজবুতি অর্জন ও শতভাগ সক্রিয়করণের লক্ষ্যে সেশনের শুরুতেই সকল উপশাখার সেটআপ সম্পন্ন করা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও রেজিস্টার খাতা হালনাগাদ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
২.১.৪. শাখা ও থানাভিত্তিক উপশাখা দায়িত্বশীল সমাবেশ ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর উপশাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম নিশ্চিত করা হবে।
২.১.৫. যেসব আবাসিক এলাকায় সংগঠন নেই সেখানে উপশাখা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সমর্থক সংগঠন তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হবে। এক্ষেত্রে মসজিদকে কেন্দ্র করে উপশাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
২.১.৬. সংগঠন সম্প্রসারণ ও গণভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে শতভাগ উপজেলা পৌরসভা এবং ইউনিয়নে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে এবং ইউনিয়নের ১০% ওয়ার্ডকে উপশাখা মানের ও বাকিগুলোতে সমর্থক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা।
২.১.৭. সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতিকরণের লক্ষ্যে থানা, ওয়ার্ড/ইউনিয়ন ও উপশাখার তত্ত্বাবধায়কগণ তত্ত্বাবধানকৃত এলাকায় পরিকল্পিত সময়দান এবং বেইজ এরিয়া সংশ্লিষ্ট থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফর করার চেষ্টা করবেন।
উপশাখার কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি
* কুরআন তালিম
* সামষ্টিক পাঠ
* চা-চক্র
* সাপ্তাহিক সাধারণ সভা
* মাসিক সাধারণ সভা
* কর্মী বৈঠক
* সমর্থক শিক্ষাবৈঠক
* সাধারণ জ্ঞানের আসর
* গ্রুপ দাওয়াতি কাজ
শেষ কথা
আমাদের আদর্শের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় সংগঠন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পলিসি উদ্ভাবনের কাজ করে থাকে। মাঠ পর্যায়ে উপশাখা সংগঠনই কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকে। তাই সংগঠনের উপশাখা যত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে সংগঠন তত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে। করো না মহামারি পরবর্তী সময়ে উপশাখা পর্যায়ে কাজ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
উপশাখার প্রোগ্রাম এবং উপশাখার অন্যান্য কার্যাবলি শতভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল, অনলাইন এবং মাদকাসক্তি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধ ও ইসলামী অনুশাসনে আগ্রহী করে তুলতে উপশাখা দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দায়িত্বশীলদের জ্ঞানগত ও আমলগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপশাখার কাজগুলো আদর্শ মানে উন্নীত করার মাধ্যমে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হবে, ইনশাআল্লাহ।






