Close
Showing posts with label সাম্প্রতিক. Show all posts
Showing posts with label সাম্প্রতিক. Show all posts

Saturday, May 16, 2026

উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে দায়িত্বশীলের করণীয়

উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে দায়িত্বশীলের করণীয়

উপশাখা কী?

কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনস্থ শাখাসমূহের আওতায় সারা দেশের সংগঠনকে যে ক্ষুদ্রতম কর্মক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয় তাই উপশাখা। উপশাখা হচ্ছে সংগঠনের মৌলিক স্তর। যে শাখায় উপশাখাসমূহ যত বেশি শক্তিশালী, সক্রিয় ও নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম, সে শাখা তত বেশি সামগ্রিক কাজের দিক দিয়ে অগ্রগামী। আর উপশাখা যেখানে দুর্বল, সেখানে সংগঠনের গতিও শ্লথ। আর তাই উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের মাধ্যমেই একটি আদর্শের অনিবার্য বিজয় সুনিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ। আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য, করণীয় ও নিয়মিত কার্যক্রমসমূহ নিম্নোক্ত বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো-


দায়িত্বশীল 

যিনি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে ময়দানের চাহিদা অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে কর্মী পরিচালনা করেন, তাকে দায়িত্বশীল বলে। 


উপশাখার পরিচয়

সংগঠন স্বীকৃত প্রাথমিক ইউনিট।

বাস্তব কাজের ক্ষেত্র।

Recruiting Centre.

Supply Center.

Production Center.

One kind of industry.


উপশাখার গুরুত্ব

উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে।

রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

প্রচুর সংখ্যক সমর্থক, বন্ধু ও সাধারণ ছাত্র উপশাখার সাথে জড়িত থাকে।

দাওয়াতি কাজের আসল ক্ষেত্র।

নেতৃত্ব তৈরির প্রাথমিক স্তর।


উপশাখার একটি উদাহরণ

উপশাখা হলো রশি, জাল ও সিসা সংবলিত মাছ শিকারের ১টি জালের মতো। রশি ও জাল যতই মজবুত হোক, সিসা না থাকলে যেমন কাঙ্ক্ষিত মাছ শিকার করা যায় না, অনুরূপভাবে আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিক আছে মনে হলেও উপশাখার কার্যক্রম যথাযথ না থাকলে সংগঠন দুর্বলই থেকে যায়। আদর্শ সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো মজবুত উপশাখা।


আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য

১. চেইন অব লিডারশিপ (নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা) থাকা।

২. নিয়মিত বৃদ্ধি (সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু, সুধী) হওয়া।

৩. ব্যয় অনুযায়ী আয় নিশ্চিত হওয়া।

৪. সকল ধরনের তালিকা ও রেজিস্টার আপডেটেড থাকা।

৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকা।


আদর্শ উপশাখার করণীয়

১. উপশাখার কর্মী বৈঠকে মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/থানা দায়িত্বশীলকে দেখানো।

২. প্রতিমাসে ৪টি মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। মাসের ১ম সপ্তাহে কুরআন তালিম, ২য় সপ্তাহে সামষ্টিক পাঠ, ৩য় সপ্তাহে যেকোনো একটি দাওয়াতি প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, ফলচক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, কুইজ প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম ইত্যাদি) এবং শেষ সপ্তাহে কর্মী বৈঠকের আয়োজন করা।

৩. উপশাখায় একটি দাওয়াতি গ্রুপ নিশ্চিত করে প্রতি সোমবারে গ্রুপ দাওয়াতিবার পালন করা। গ্রুপ দাওয়াতি কাজের স্থান ও সময় নির্ধারণ করে পূর্বেই অগ্রসর কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া এবং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে বাংলা কিশোর পত্রিকা, স্টিকার-কার্ড, দাওয়াতি বই বিক্রয় ও বিতরণ করা।

৪. মাসের প্রথম সপ্তাহে সকল কর্মী-সক্রিয় সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট থেকে বায়তুলমাল সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন সংগঠনের নিকট জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ ও আয় বৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। পাশাপাশি টেবিল ব্যাংক, দোকান বাক্স ও কলসের মাধ্যমে ছাত্রকল্যাণ আদায় করা।

৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের কোনো প্রোগ্রাম থাকলে সেই কর্মসূচিতে সকল কর্মী-সমর্থকদের যথাসময়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৬. মাস শেষে নির্ধারিত ফরমেটে সকল কাজের রিপোর্ট তৈরি


করা ও খাতায় ওঠানো। উপশাখা দায়িত্বশীল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট পেশ করা এবং এক কপি ঊর্ধ্বতন সংগঠনে জমা দেওয়া। দায়িত্বশীল ভাইদের পর্যালোচনা ও পরামর্শ উপশাখা রেজিস্টারের নির্ধারিত পাতায় নোট করে দায়িত্বশীল ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া।

৭. কর্মী বৃদ্ধির জন্য টার্গেটকৃত সমর্থকদের মাসের শুরুতেই (প্রথম তিন দিনের মধ্যে) রিপোর্ট বই/ফরম পৌঁছানো, মাসব্যাপী তত্ত্বাবধান, সাহচর্য প্রদান এবং মাসের শেষে ব্যক্তিগত রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করা।

৮. প্রতিমাসে পাঠাগারে বই বৃদ্ধির প্রচেষ্টা এবং জনশক্তিকে নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করা। সকল কর্মী-সমর্থকের নিকট প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি বই পৌঁছানো এবং বইটি পড়া হয়েছে কিনা তদারকি করা। প্রদানকৃত বইয়ের ইস্যু রেজিস্টার নিশ্চিত করা।

৯. উপশাখায় প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ জন কর্মী, ২ জন সমর্থক, ৩ জন বন্ধু এবং ১ জন শুভাকাঙ্ক্ষী বৃদ্ধি করা।

১০. উপশাখা রেজিস্টার খাতায় নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ করা (কার্যবিবরণী, বায়তুলমাল রিপোর্ট, জনশক্তির তালিকা ইত্যাদি)।

১১. উপশাখার প্রোগ্রামসমূহে উপস্থিত মেহমানবৃন্দের নাম ও দায়িত্ব কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা।


উপশাখা মজবুতিতে করণীয়

১. উপশাখার এরিয়া ও সামগ্রিক অবস্থা (রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক পরিবেশ) সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান রাখা।

২. ৫ম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের সকল ছাত্রদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ। এক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র, স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র, অমুসলিম ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পৃথক পৃথক তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি সকল তথ্য ও তালিকার যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

৩. ৪ ক্যাটাগরির (সিঙ্গেল ডিজিট, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, প্লেসধারী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান) ছাত্রদের মাঝে টার্গেট করে কাজ করা। পাশাপাশি সমাজের প্রভাবশালী মহলের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি।

৪. কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা ও সংগঠনের মাঝে টিম স্পিরিট সৃষ্টি।

৫. বেইজ এরিয়া তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৬. নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই আলোকে উপযুক্ত কর্মী গঠন করা।


ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি

১.  ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজের সূচনা করা।

২. নিয়মিত সাক্ষাৎ ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে আস্থাভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া।

৩. সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সে সংগঠনকে পছন্দ না করলে কিংবা সংগঠনের সাথে আমার সম্পৃক্ততা জেনেও আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে দ্বিধা করবে না।

৪. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমধারা অবলম্বন করে দাওয়াত পৌঁছাতে উদ্যোগী হওয়া।

৫. দায়ীর বৈশিষ্ট্য অর্জন ও ধারণ করা।

৬. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমান্বয়ে কর্মী পর্যায়ে নিয়ে আসা।


কর্মীগঠন প্রক্রিয়া

১. যোগাযোগকারীর বৈশিষ্ট্য অর্জন

২. সাহচর্য দান

৩. মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে সাহচর্য প্রদান

৪. পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ ও সুন্দর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা

৫. ছোটোখাটো দায়িত্ব অর্পণ

৬. অর্থদানে উদ্বুদ্ধকরণ

৭. প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান

৮. দাওয়াতি কাজে সক্রিয়করণ

৯. কাজের রিপোর্ট গ্রহণ

১০. আল্লাহর নিকট দোয়া করা


উপশাখা দায়িত্বশীলের গুণাবলি

১. জ্ঞানের ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া।

২. আমল ও মুয়ামেলাতের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।

৩. নৈতিক মানে শ্রেষ্ঠ হওয়া।

৪. জনশক্তিদের (কর্মী ও সমর্থক) মধ্যে সবচাইতে আস্থাভাজন ব্যক্তি হওয়া।

৫. সবর/ধৈর্যশীল হওয়া।

৬. সাহসিকতাপূর্ণ হওয়া।

৭. জরুরি বা যেকোনো পরিস্থিতিতে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী।

৮. ভ্রাতৃত্ব ও প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা।

৯. ত্যাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী হওয়া।

১০. জনশক্তিদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা।

১১. সুবক্তা।

১২. নথিপত্র ও হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শী।


উপশাখা দায়িত্বশীলের জন্য আবশ্যক 

ময়দানগত

* উপশাখার এরিয়া সর্ম্পকে জানা

* প্রতিদিন গড়ে ১ ঘন্টা সময় দেওয়া

* সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণ

* যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মবণ্টন

* উপযুক্ত তত্ত্বাবধান

* সংবাদ আদান প্রদান

* নিয়মিত দাওয়াতি কাজ করা (স্কুল, খেলার মাঠ, মেস, মসজিদ)

* দাওয়াতি উপকরণসহ এক মসজিদে আসর অন্য মসজিদে মাগরিব নামাজ আদায় করা।


জ্ঞানগত

* কুরআন-হাদিসের জ্ঞান

* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আয়ত্ত করা

* সংগঠনের স্ট্রাকচার জানা

* সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানা


আমলগত

* উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া

* আস্থাভাজন হওয়া

* ধৈর্যশীল হওয়া

* আমানতদার হওয়া

* ইনসাফ কায়েম করা


উপশাখার প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রামসমূহ ফলপ্রসূ করতে করণীয়

১. পূর্বেই বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কর্মী-সমর্থকদের ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার অনুভূতি, সাংগঠনিক বুঝ, জ্ঞানগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বিষয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

২. প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর পরিচালকের পর্যাপ্ত স্ট্যাডি করা প্রয়োজন। কুরআন-হাদিসের আলোকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে বোঝানোর বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের (ওয়ার্ড/থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল) দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে।

৪. ছুটির দিনে অথবা ছাত্রদের অ্যাকাডেমিক শিডিউল বিবেচনায় নিয়ে প্রোগ্রামের সময় নির্ধারণ করা।

৫. সামর্থ্যের আলোকে আকর্ষণীয় নাস্তার আয়োজন রাখা।

৬. প্রোগ্রামগুলোকে ইফেক্টিভ করতে মাঝে মধ্যে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রতিযোগিতা/পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৭. মাঝে মধ্যে পূর্বের প্রোগ্রামের রিভিউ নেওয়া; কতটুকু মনে রাখতে বা ধারণ করতে পারল।

৮. ন্যূনতম তিন দিন পূর্বে প্রোগ্রামের দাওয়াতি কাজ করা প্রয়োজন।


২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা-সংক্রান্ত আলোচনা 

২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা মজবুতকরণকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সাংগঠনিক সেশনের স্লোগানটিই উপশাখাকে হাইলাইটস করে নেওয়া হয়েছে। এ বছরের স্লোগান হলো-

মজবুত উপশাখা, ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ

গড়ে তুলি প্রজন্ম, সফল করি আন্দোলন


এ ছাড়াও উপশাখা সংক্রান্ত নিম্নোক্ত বিষয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যমান-

মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি-২

জনশক্তিকে সাহচর্য প্রদান, সুষম কর্মবণ্টন, প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন সম্প্রসারণ ও উপশাখা মজবুতিকরণ।

একনজরে অর্জিতব্য টার্গেটসমূহ-(সংগঠন)

সকল নিষ্ক্রিয় উপশাখাকে সক্রিয়করণ এবং নতুন করে ২৮% উপশাখা তথা ১০০০০টি উপশাখা বৃদ্ধি করা হবে। 


কর্মপরিকল্পনাসমূহ

১ম দফা : দাওয়াত

১.১.৪. উপশাখাকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনের সকল স্তরে মাসে ন্যূনতম ১টি করে দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে।

১.১.৮. দাওয়াতি মিশনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে ‘যত মাঠ তত টিম’ গঠন করা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আবাসিক সংগঠনসমূহ উপশাখাভিত্তিক কমপক্ষে ১টি করে স্পোর্টস টিম গঠন নিশ্চিত করবে।

১.১.১১. সকল জনশক্তিকে দাওয়াতি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি সোমবার সাপ্তাহিক গ্রুপ দাওয়াতি বার পালন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক উপশাখা কমপক্ষে ১টি গ্রুপ বের করবে।


২য় দফা : সংগঠন

২.১.১. নতুন উপশাখা বৃদ্ধির লক্ষ্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বছরের শুরুতেই সংগঠন নেই এমন প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহের তালিকা তৈরি করে জনশক্তিদের মাঝে কাজ বণ্টন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণের মাধ্যমে টার্গেটকৃত প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহে নিয়মিত সফর, তদারকি করা ও প্রতিমাসে পর্যালোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি আবাসিক থানা প্রশাসনিক ভোটকেন্দ্রকে ভিত্তি করে উপশাখা বৃদ্ধির জন্য টার্গেট নেবেন।

২.১.২. উপশাখাসমূহের মজবুতি অর্জন ও শতভাগ সক্রিয়করণের লক্ষ্যে সেশনের শুরুতেই সকল উপশাখার সেটআপ সম্পন্ন করা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও রেজিস্টার খাতা হালনাগাদ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

২.১.৪. শাখা ও থানাভিত্তিক উপশাখা দায়িত্বশীল সমাবেশ ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর উপশাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম নিশ্চিত করা হবে।

২.১.৫. যেসব আবাসিক এলাকায় সংগঠন নেই সেখানে উপশাখা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সমর্থক সংগঠন তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হবে। এক্ষেত্রে মসজিদকে কেন্দ্র করে উপশাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

২.১.৬. সংগঠন সম্প্রসারণ ও গণভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে শতভাগ উপজেলা পৌরসভা এবং ইউনিয়নে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে এবং ইউনিয়নের ১০% ওয়ার্ডকে উপশাখা মানের ও বাকিগুলোতে সমর্থক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা।

২.১.৭. সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতিকরণের লক্ষ্যে থানা, ওয়ার্ড/ইউনিয়ন ও উপশাখার তত্ত্বাবধায়কগণ তত্ত্বাবধানকৃত এলাকায় পরিকল্পিত সময়দান এবং বেইজ এরিয়া সংশ্লিষ্ট থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফর করার চেষ্টা করবেন।


উপশাখার কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি

* কুরআন তালিম

* সামষ্টিক পাঠ

* চা-চক্র

* সাপ্তাহিক সাধারণ সভা

* মাসিক সাধারণ সভা

* কর্মী বৈঠক

* সমর্থক শিক্ষাবৈঠক

* সাধারণ জ্ঞানের আসর

* গ্রুপ দাওয়াতি কাজ


শেষ কথা

আমাদের আদর্শের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় সংগঠন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পলিসি উদ্ভাবনের কাজ করে থাকে। মাঠ পর্যায়ে উপশাখা সংগঠনই কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকে। তাই সংগঠনের উপশাখা যত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে সংগঠন তত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে। করো না মহামারি পরবর্তী সময়ে উপশাখা পর্যায়ে কাজ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

উপশাখার প্রোগ্রাম এবং উপশাখার অন্যান্য কার‌্যাবলি শতভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল, অনলাইন এবং মাদকাসক্তি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধ ও ইসলামী অনুশাসনে আগ্রহী করে তুলতে উপশাখা দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দায়িত্বশীলদের জ্ঞানগত ও আমলগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপশাখার কাজগুলো আদর্শ মানে উন্নীত করার মাধ্যমে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হবে, ইনশাআল্লাহ।

Thursday, February 26, 2026

ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার ২০২৬ সেশনের সেটআপ সম্পন্ন

২০২৬ সেশনের সভাপতি হিসেবে ইমাম হোসেন আরমান ও সেক্রেটারি হিসেবে আশ্রাফুল হক সোহেলের নাম ঘোষণা করেন।


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার ২০২৬ সেশনের জন্য সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টায় ফেনী জেলা শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি আবু হানিফ হেলালের সভাপতিত্বে ফেনী দারুল ইসলাম সোসাইটি মিলনায়তনে জরুরি সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন রুবেল। জেলা শাখার সদস্যদের গোপন ব্যালটে প্রদত্ত পরামর্শের আলোকে জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি নাম ঘোষণা করেন তিনি। ২০২৬ সেশনের সভাপতি হিসেবে ইমাম হোসেন আরমান ও সেক্রেটারি হিসেবে আশ্রাফুল হক সোহেলের নাম ঘোষণা করেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর মুফতি আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাও. আব্দুর রহিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ফেনী শহর সভাপতি হাফেজ মাজহারুল ইসলাম, সাবেক জেলা সেক্রেটারি আ.ন.ম. আব্দুর রহিম, সাবেক জেলা সভাপতি ফারুক আহমেদ আজাদ, নাজিম উদ্দিন, ইমাম হোসেন এবং সদ্য সাবেক সভাপতি আবু হানিফ হেলাল।

পরবর্তীতে দোয়া ও মুনাজাত এবং ইফতারের মধ্য দিয়ে প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

Saturday, August 2, 2025

২০২৫ সালের সেরা AI টুলস | যেগুলো আপনার কাজকে ১০ গুণ দ্রুত করবে

২০২৫ সালের সেরা AI টুলস | যেগুলো আপনার কাজকে ১০ গুণ দ্রুত করবে

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বরং এখনকার কাজকর্মের অতি প্রয়োজনীয় একটি অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসিয়াল কাজ, পড়াশোনা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ভাষান্তর কিংবা ভিডিও সম্পাদনা—সবকিছুতেই AI টুলস গুলো আমাদের সময় ও শ্রম অনেকটা বাঁচাচ্ছে।


AI টুল ব্যবহারের সুবিধা:

•সময় সাশ্রয়

•কম ভুল

•কম দক্ষতায়ও পেশাদার মানের আউটপুট

•ছাত্র, শিক্ষক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও চাকরি প্রার্থী—সবার জন্য উপযোগী


২০২৫ সালে যেসব AI টুলস সবার চেয়ে বেশি কার্যকর ও জনপ্রিয়, সেগুলোর একটি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো। এগুলো আপনার কাজের গতি ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।


১. ChatGPT-4o (OpenAI)

•লেখালেখি, ব্লগ, কোডিং, ইমেইল লেখা, প্রশ্নের উত্তর, কনটেন্ট আইডিয়া তৈরিতে অসাধারণ।

•কাস্টম GPT এবং নানা থার্ড পার্টি টুলস একসাথে ব্যবহার করা যায়।

•বাংলাতেও কার্যকরভাবে কাজ করে

লিংক: https://chat.openai.com


২. Claude 3 (Anthropic)

•দীর্ঘ ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ, প্রোডাক্টিভিটি টুল এবং নিরাপদ AI চ্যাট সহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

•ব্যবহার সহজ এবং প্রম্পট রেসপন্সে স্মার্ট।

•লম্বা ডকুমেন্ট বা PDF আপলোড করে সারমর্ম পাওয়ার জন্য

•একাডেমিক ও গবেষণাধর্মী কাজে বেশ কার্যকর

•বড় লেখাকে সহজ ভাষায় সংক্ষেপ করতে সক্ষম

লিংক: https://claude.ai



৩. Google Gemini

•গুগলের নিজস্ব অ্যাসিস্ট্যান্ট-নির্ভর AI টুল।

•Google Docs, Gmail, ও Google Meet-এর সাথে সংযুক্ত হয়ে কাজ সহজ করে তোলে।

•সহজে প্রেজেন্টেশন তৈরি করার AI টুল

•PowerPoint না জানলেও ব্যবহার করা যায়

•শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস প্রেজেন্টেশনে কার্যকর

লিংক: https://gamma.app


৪. Microsoft Copilot

•Word, Excel, PowerPoint-এর মধ্যেই AI যুক্ত হয়েছে Copilot-এর মাধ্যমে।

এক ক্লিকে রিপোর্ট, ডাটা বিশ্লেষণ, চার্ট, প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়।

•Microsoft Teams ও Outlook-এও ব্যবহারযোগ্য।

🔗 https://copilot.microsoft.com


৫. Perplexity AI

•AI-বেইসড সার্চ ইঞ্জিন ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত।

•ফ্যাক্টসহ উত্তর এবং সোর্স সহ বিশ্লেষণ দেয়।

গবেষণা বা লেখার সময় তথ্য যাচাই করতে উপযুক্ত।

🔗 https://www.perplexity.ai


৬. Notion AI

•নোট নেওয়া, কনটেন্ট লেখা, ডকুমেন্ট সাজানো—সবকিছুতে সহায়ক।

•ছাত্রছাত্রী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আদর্শ।

AI দিয়ে লেখা সাজানো, সারাংশ করা, রিমাইন্ডার তৈরির সুবিধা।

🔗 https://www.notion.so/product/ai


৭. Grammarly GO

•ইংরেজি লেখার সময় ভুল ধরার পাশাপাশি এখন নিজে নিজে কনটেন্ট সাজিয়ে দিতে পারে।

প্রফেশনাল ইমেইল, ব্লগ ও রিসার্চ রাইটিংয়ে কার্যকর।

🔗 https://www.grammarly.com/go


৮. Canva AI Tools (Magic Write, Magic Edit)

•ডিজাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির জন্য অসাধারণ টুলস।

•অটো ডিজাইন সাজানো, লেখা তৈরি, ছবি এডিট করার সুবিধা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট, প্রেজেন্টেশন, পোস্টার তৈরিতে দারুণ।

🔗 https://www.canva.com/ai/


৯. QuillBot & Wordtune

•প্যারা রিফ্রেজ, সারাংশ তৈরি, প্রফেশনাল লেখালেখির জন্য কার্যকরী।

•ছাত্রছাত্রীদের জন্য খুবই উপযোগী।

🔗 https://quillbot.com


Wordtune:

•লেখা আরও প্রফেশনাল বা সহজভাবে প্রকাশ করতে সহায়তা করে।

 🔗 https://www.wordtune.com


১০. Pika Labs & Sora (Text-to-Video)

•কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ভবিষ্যৎ টুলস।

•AI দিয়ে লিখা থেকে ছোট ভিডিও বানানো যায়। 

🔗 https://www.pika.art


Sora (by OpenAI):

•এখনো পাবলিকলি পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়, তবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে।

•নিখুঁত সিনেমাটিক ভিডিও জেনারেট করতে পারে।

🔗 https://openai.com/sora


উপসংহার:

২০২৫ সালে এই AI টুলসগুলো কেবল প্রযুক্তির চমক নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যেকোনো কাজকে সহজ, দ্রুত এবং মানসম্পন্ন করতে এই টুলগুলো ব্যবহার করে আপনি এগিয়ে থাকতে পারেন অন্যদের চেয়ে অনেকটাই।

আজই ব্যবহার শুরু করুন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা AI টুলটি!

Tuesday, May 20, 2025

মীর জুমলা থেকে মীর মুগ্ধ | ড. আবদুল বারী


আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে মহৎ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইরানের ইস্পাহানে জন্ম লাভ করা এক মুসলিম বনিক পরিবারের সন্তান বাংলায় মুঘল মসনদের হাত শক্তিশালী করার জন্য আমৃত্যু নিজেকে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় নিয়োজিত রাখেন। তিনি ইতিহাসে মীর জুমলা নামে অধিক পরিচিত। তিনি বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর হতে বাংলার সার্বভৌম অধিকার স্থিতিশীল রাখার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করেন। তারই উত্তরসূরি একবিংশ শতকের বাংলাদেশের বীরযোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফয়সাল, ওয়াশিমসহ অসংখ্য বীর শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে করেছে ঋণী। মীর জুমলার জীবন যেমন বাংলাকে করেছিল স্থিতিশীল অঞ্চল, তেমনি ২০২৪ সালের শত শত শহীদের রক্ত এবং হাজার হাজার আহত, পঙ্গু, চোখ হাত-পা হারা এবং জ্ঞান হারাদের অসীম ত্যাগে বাংলাদেশকে তৈরি করবে সাম্য, মানবিক এবং নৈতিক দেশে হিসেবে এবং এ দেশ স্থিতিশীল হিসেবে টিকে থাকবে ভবিতব্য ইতিহাসে।


মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির পতনের কারণ

মুসলিম জাতি কোনো রাজনৈতিক শক্তির নাম নয়, যা আজ বিশ্বে বহুলভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। মুসলিম হলো এক মানবিকতার উম্মাহ বা জাতি, যা কোনো ধর্মের ছাঁচে বিবেচনা করা যায় না। একজন মুসলিম বিবেচনা করে সত্য, ন্যায়, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতাকে পুঁজি করে। প্রত্যেক মানবসন্তানের কষ্টই হলো মুসলিম শাসকের কষ্ট বা যাতনার কারণ। মানবতার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের ওহি জ্ঞান (ওহি মাতলু ও গায়রে মাতলু তথা কুরআন ও হাদীস), প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে মদিনা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের নমুনা সৃষ্টি করেন, যার আলোকে তাঁর তিরোধানের পর খলিফাগণ দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেন। এমতাবস্থায় মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি একটি ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করতে থাকে এবং অমুসলিম শাসকরা তাদের প্রভাব, শক্তি ও শিক্ষার আলোকে মুসলিম রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে ব্যাখ্যা করে।

তখন যদি মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি নিজেদেরকে রাসূলের সঠিক অনুসারী হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে অসমর্থ হয়, তবে মুসলিম রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা অন্যান্য অমুসলিম রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় এবং মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির মৌলিকত্ব বলতে আর কিছু থাকে না; যা আজকের তথাকথিত বা প্রচলিত মুসলিম শক্তির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাসূলের রাজনৈতিক জ্ঞানকে অবজ্ঞা এবং পরিত্যাগ করে অমুসলিম রাজনৈতিক শক্তির কৌশল, জ্ঞান, অভিজ্ঞতাকে মুসলিম রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ নিজেদের পদ-পদবিকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্বেচ্ছাচারীর ন্যায় প্রশাসন পরিচালনা করে এবং তা মুসলিম রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা বলে চালিয়ে দিতে থাকলে প্রকৃত মুসলিম আদর্শ বা রাসূলের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিম রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আজকের সময়ের অনেক তথাকথিত মুসলিম যাদুঘরের ব্যবস্থাপনা বলে বর্ণনা করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই মুসলিমদের রাজনীতির সঠিক পাঠ না থাকা এবং এ পঠনকে সঠিকভাবে অনুসরণ না করার ফলে মুসলিম বিশ্বে এ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার পতন বা মৃত্যু ঘটেছে।


•মীর জুমলার জন্ম ও পরিচয়

তিনি ১৫৯১ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের বিখ্যাত ইস্পাহান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সেখানকার এক দরিদ্র তৈল ব্যবসায়ী ছিলেন। ছোটো বয়সে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন। তদানিন্তন সময়ে হীরার খনিসমৃদ্ধ ভারতের গোলকুণ্ডা তথা হায়দারাবাদ রাজ্যে অন্যের ব্যবসায়িক কাজের সহযোগিতার করার নিমিত্তে ছোটো চাকুরীতে যোগদান করেন। সময়ের বিবর্তনে তিনি নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করে কেরানির চাকুরী থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মীর জুমলা ব্যবসা-বাণিজ্যে এত বেশি সমৃদ্ধি লাভ করেন যে, অল্প সময়ের মধ্যে তিনি শুরাট (ভারতের গুজরাট), আরাকান, আয়ুথায়া (বর্তমানে দক্ষিণ থাইল্যাণ্ড), বালাশোর (উড়িষ্যা প্রদেশে), আচেহ (ইন্দোনেশিয়া), মালাক্কা (মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া), যোহোর (মালয়েশিয়া), বান্তাম (ইন্দোনেশিয়া), মাকাস্সার (ইন্দোনেশিয়া), জেদ্দা, বন্দর আব্বাস (ইরান), সিলন (শ্রীলংকা), বসরা (ইরাক), এডেন (ইয়েমেন), মাস্কাট (ওমান), মালদ্বীপ এবং মুখা (ইয়েমেন) প্রভৃতি বন্দরে তাঁর নিজ ব্যবসায়ী কাজ পরিচালনা করার জন্য গমন করেন এবং তদানিন্তন সময়ে একজন সফল ও প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।


মীর জুমলার রাজনৈতিক জীবন

ব্যবসায়িক জীবনে সফলতার পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি প্রথমে গোলকুণ্ডার কুতুবশাহী সুলতানকে অনেক উপঢৌকন দিয়ে শাসকের নিকট নিজের অবস্থা সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা করেন। অতঃপর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেখানকার সুলতানের দরবারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রাজদরবারের প্রধান উজিরের দায়িত্ব পান। কিন্তু রাজদরবারের অন্য সদস্যদের কূটকৌশলের কারণে তাঁর ওপর শাসকের নেক নজর না থাকলে তিনি তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করেন এবং কুতুবশাহী রাজার পরিবর্তে মুঘল সম্রাটের আনুকুল্য লাভের মাধ্যমে তাঁর ভবিষ্যৎ পথ বিনির্মাণ করেন।

তিনি মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও আওরঙ্গজেবের সময়ে গোলকুণ্ডা, বিজাপুরসহ দাক্ষ্যিনাত্যের আরও অনেক অঞ্চল মুঘলদের করদ-রাজ্য হিসেবে পদানত করতে সক্ষম হন। তিনি নিজ প্রতিভা বলে ক্ষুদ্র তেল ব্যবসায়ির পুত্র ও কেরানি পদের ব্যক্তি হওয়া সত্বেও তৎকালীন সময়ে শ্রেষ্ঠতম সমরনায়ক এবং সুবাদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বাংলার মুঘল সুবাদার হিসেবে ক্ষমতা লাভের পর ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে আসামে অভিযান প্রেরণ করেন জুমলা। তিনি একজন সেনা ও নৌ বিদ্যায় পারদর্শী এবং অভিজ্ঞ সেনাপতি হওয়ায় আসাম, কোচবিহার এবং কামরূপ দখল করেন।


বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

মীর জুমলাকে মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার করে ‘খাঁন ই খানান মুয়াজ্জাম খান’ উপাধী দেওয়া হয়। তিনি বাংলার অস্থির রাজনৈতিক অবস্থাকে স্থিতিশীল করার জন্য তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগান। মীর জুমলা শুধ বাংলারই সুবাদার ছিলেন না; এর পূর্বাঞ্চলীয় গৌহাটি, কোচবিহার, কামরূপ (আসাম), অহম (আসাম) এলাকাকে সুবাহ বাংলার সাথে এতত্রিত করে মুঘল প্রশাসনের কর্তৃত্বে নিয়ে আসার জোর প্রচেষ্টা চালান তিনি। ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর সুবাদারি আমলে এ সকল অঞ্চলে নিজের অবস্থান মজবুত রাখতে সক্ষম হন।


মীর মুগ্ধের জন্ম ও শাহাদাত

তাঁর নাম মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ (১৯৯৮-২০২৪ খ্রি.)। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে অনার্স পাশ করে ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনাল্স থেকে এমবিএ করছিলেন। বাংলাদেশের জুলাই অভ্যূত্থানের সময় ছাত্রদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন মুগ্ধ। আজকের আলোচনায় মীর জুমলা ও মীর মুগ্ধের আত্মত্যাগ বাংলা, বাংলাদেশ এবং বিশ্ব মুসলিম প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য ও মিলের বিষয়টি ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা এ সময়ের দাবি।


•মীর জুমলার সময়ে বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা

বাংলা ছিল তখন দিল্লির অধীনস্ত এক শক্তিশালী মুসলিম-প্রধান এলাকা। সে সময় পৃথিবীর মহাদেশগুলোর মধ্যে শুধু আমেরিকা মহাদেশে মুসলিমদের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইতিহাস এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। এছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশের প্রায় সকল রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপ্রধানগণ মুসলিম শাসকের আনুকূল্য লাভের চেষ্টায় নিজেদেরকে তৎপর রাখত। তৎকালীন সময়ে উসমানীয় খলিফাদের আনুকূল্য লাভের জন্য ইউরোপের আজকের প্রভাশালী ফ্রান্স, বৃটিশ, ইতালি, রাশিয়াসহ অঞ্চলের রাষ্ট্রপ্রধানরা সজাগ থাকত সর্বদা। অনুরূপভাবে এশিয়ার রাজাদের মধ্যে আজকের প্রভাবশালী চীন ও অন্যান্য অঞ্চলের রাজারা ভারতের সুলতানী, মুঘল, সাফাবী এবং উসমানীয় শাসকদের সাথেও সদ্ভাব রেখে চলত তারা। অমুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরা তাদের প্রয়োজনে মুসলিম সরকারপ্রধানদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করত।

উল্লেখ্য, অষ্টাদশ শতকের শেষে এবং উনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের মুঘল এবং উসমানীয় তুর্কিদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলত। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উসমানীয়দের ক্ষমতা স্তিমিত হতে থাকলে মুসলিম অঞ্চলে তারা নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম অঞ্চল দখল করতে থাকে। বৃটিশ, ইতালি, পর্তুগিজ, ডাচসহ অন্যান্য কোম্পানি ও সরকার তাদের প্রয়োজনে মুসলিম এ সকল প্রভাবশালী সরকারের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখত। কিন্তু মুসলিম অনৈক্যের সুযোগ তৈরি এবং সেই সুযোগে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে থাকে। সময়ের বাস্তবতায় অমুসলিম শক্তির কাছে মুসলিম শাসকগণ পরাজিত হন। আজ অবধি এ শক্তির পুনরুত্থান বা পুনরুদ্ধার হয়নি।

•মীর মুগ্ধের শাহাদাতকালে বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা

আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা যেভাবে চলছে, মীর জুমলার সময়ে রাজনৈতিক অবস্থা ছিল তা থেকে ভিন্ন। মুসলিম শাসক ও নেতাদের অনৈক্যের সুযোগে বৃটিশসহ অন্যান্য ইহুদী-খ্রিস্টান শক্তির পরোক্ষ মদদে ১৮২৫ সালের পর সৌদ-উসমানী দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ ধারণ করে। অন্যদিকে ১৮৫৭ সালে প্রত্যক্ষভাবে ভারতে বৃটিশ শাসন শুরু হলে মুসলিম নেতা ও শাসকগণ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব হারিয়ে ফেলে। ১৯১৭ ও ১৯৩৯ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মুসলিম নেতৃত্ব ও দুর্বল প্রশাসন শতধারায় বিভক্ত হয়ে যায়।

তখন সৃষ্টি হয় বিশ্ব নেতৃত্বের নতুন পঞ্চ শক্তির উত্থান; যেখানে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থায় ছিল না। ফলে মুসলিম রাজারা সম্পূর্ণভাবে একেক সময়ে একেক শক্তির পেছনে জোট করে ছুটতে থাকে। কিন্তু তারা ইউরোপীয় শক্তি বা অন্যান্য দিকে ঝুঁকলেও নিজেদের রাজনৈতিক ঐক্য না থাকায় মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানগণ বিশ্বে কোনো শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। তাই একসময়ের নেতৃত্ব দানকারী মুসলিম শাসকগণ ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে, যা আজকের রাজনৈতিক ইতিহাসে লক্ষণীয়।


অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থাপনার ইতিহাস

মীর জুমলা হতে মীর মুগ্ধের সময়ের মুসলিম প্রতিবেশ পরিবর্তনের কারণ খোঁজ করা অতীব জরুরি। মুসলিম শাসকদের এ অবস্থা কেন হলো, কিসের অভাবে, কাদের জন্য, কিভাবে এ অবস্থা হতে আবার পূর্ব ঐতিহ্যে ফিরে যাওয়া সম্ভব; তা আজকের ভাবনার বিষয়।

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে- ইস্পাহানের এক ছোট্টো তেল ব্যবসায়ির সন্তান অল্পকিছু শিক্ষা লাভের পরও নিজ বুদ্ধি বিবেচনায় নিজের রাজনৈতিক ইতিহাসের আসন উজ্জল স্থানে নিতে সক্ষম হন। সে সময় ইস্পাহান হতে বাংলা পর্যন্ত সকল রাষ্ট্রের প্রধান মুসলিম শাসক বা মুসলিম শাসকের আনুকূল্যে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে ছিল। তদানিন্তন সময়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তিনটি প্রধান শক্তি তথা উসমানীয়, সাফাবী এবং মুঘল রাজনৈতিক বলয়ে আবর্তিত হতো।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা দেশ, এমনকি অত্যন্ত প্রভাবশালী মুসলিম শক্তিও আমেরিকা, বৃটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ই.ইউ, রাশিয়া, ভারত, চীনের নানা কৌশল ও পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এ রাজনৈতিক গতি পরিবর্তনের ইতিহাস আজকের বাস্তবতায় গবেষণার দাবি রাখে। কেননা বর্তমান শাসকদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রশাসনের বাইরের রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন। আশার দিক হলো- আজকের পৃথিবীর বাস্তবতায় মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্রের শাসকদের স্থলে দেশপ্রেমিক সুসংগঠিত নকীবদের পদচারণা পৃথিবীব্যাপী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সেকেলে পুরাতন মানসিকতার শাসকশ্রেণির পরিবর্তন করা সম্ভব হলে নতুন মুসলিম বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ। যার মাধ্যমে রাসূলের মানবিক, সাম্য এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠিত হবে বিশ্বজুড়ে।


বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা

১৯৭১ সালে এদেশের দামাল ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা, তা চুয়ান্ন বছরেও অধরা থেকে যাচ্ছে। এর কারণ খুঁজে বের করার এ মোক্ষম সময়ে চিন্তা ও পরিকল্পনা থাকা একটি স্বাধীন দেশের জন্য খুবই জরুরি। কেননা এতদিন যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কাগজে কলমে ছিল, তা এত বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে এ দেশের জনসাধারণ দেখতে পায়নি। তাই বিভিন্ন সময়ে এ দেশের তরুণ দামাল সন্তানদের দিতে হয়েছে অনেক উচ্চমূল্য। ১৯৭১-পরবর্তী সময়ে এদেশ দেখেছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেনাঅভ্যূত্থান, দেখেছে একই বছরের ৩ ও ৭ নভেম্বরের অনেক লিখিত ও অলিখিত ইতিহাস। 

এদেশ আরও দেখেছে ১৯৮১ সালের আরেক পৈশাচিক রক্তাক্ত বাস্তবতা, এরশাদের স্বৈরশাসন এবং ১৯৯০ সালে গণঅভ্যূত্থান, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গণতন্ত্রের মডেলে স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসন। আরও সম্ভব হয়নি বিদেশী হায়েনাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে দেশী প্রশাসকদের পদ লেহনের কারণে। এ সুদীর্ঘ চুয়ান্ন বছরে দেশের মানুষ হয়েছে শতধাবিভক্ত। তাই এদেশকে গড়তে হলে নিতে হবে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সেটা সম্ভব হবে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন করার মাধ্যমে। মানুষের আকাঙ্খাকে মর্যাদা দিয়ে এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে, যেন তারা একেকজন হয়ে ওঠে দেশমাতৃকার সেবক ও সাচ্চা প্রেমিক। তবেই এ দেশ সুসংগঠিত হবে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর নির্ভর করে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্থায়ীত্ব হবে অনেকদিন।


•রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়

মীর জুমলা ও মীর মুগ্ধের এই দেশে রাজনৈতিক সংকট যেভাবে চেপে বসেছে, তা দূর করতে হলে নিম্নোক্ত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি:

- বাংলাদেশের সকল শিক্ষিত ব্যক্তিকে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় ন্যূনতম মাত্রার শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে দেশের সকল দলের নেতা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ইসলামী শিক্ষা বা মানবিক ও নৈতিক মৌলিক পাঠ অবশ্যই পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করবে।

- বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের তাদের নিজ নিজ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা লাভের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা থাকবে।

- শিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত মানুষদের মধ্যে মুসলিম জাতির অন্তর্ভুক্ত সকলকে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিদিনের দৈনন্দিন বা প্রাত্যহিক জীবনে যে সকল আরবি শ্লোক উচ্চারণ করে, তা জেনে ও বুঝে উচ্চারণের জন্য বাধতামূলক করতে হবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকারকে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

- সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৈনন্দিন জীবনে উচ্চারিত আরবি শ্লোকগুলো অর্থসহ পঠন-পাঠনের জন্য সিলেবাসভুক্ত করতে হবে, যা মুসলিম ছাত্র অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ের ন্যায় পড়তে এবং অর্থসহ মুখস্ত করতে বাধ্য থাকবে। সরকারিভাবে এ ব্যবস্থা সকল মাদরাসা, প্রাইমারি হতে বিশ্বদ্যিালয়, মেডিকেল, প্রকৌশল, কারিগরিসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু থাকতে হবে।

- দেশ একটি পর্যায়ে এলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল মুসলিমের জন্য ইসলামকে জানা ও বোঝার সুপরিকল্পিত সিলেবাস তৈরি করতে হবে।


পরিশেষে বলা যায়- শিক্ষা মানুষকে যে পথ দেখায়, সেই পথে সে পরিচালিত হতে থাকে। আমাদের দেশে সমন্বিত এ শিক্ষাব্যবস্থা বৃটিশ ও বৃটিশ পরবর্তীকালে দেখা যায় না; যা ছিল একটি জাতি গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক। তা না হয়ে চলছে এক অপরিকল্পিত শিক্ষামাধ্যম, যার মাধ্যমে জাতি হচ্ছে বহুধাবিভক্ত। যেমন একটি বাড়িতে দুইজন ছেলে রয়েছে। একজন সন্তান কওমী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চতর শিক্ষা শেষ করলে তার শারীরিক, মানসিক অবস্থা সৃষ্টি হয় একভাবে। তেমনি অন্যজন আলিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া শেষে তার বিকাশ কেমন হয়? তারা দুই ভাই আর এক চিন্তার হয়? হয় না কেন? কারণ একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য উপযোগী ব্যবস্থা নয়।

তেমনিভাবে আমাদের দেশে সরকারি প্রাইমারি, বেসরকারি প্রাইমারি বা কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম বা ভার্সন স্কুলের ছাত্রদের শিক্ষার কোনো সমন্বয় নেই। যার ফলে আজকের বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে মানসিক ঐক্যের চেয়ে অনৈক্য বেশি লক্ষণীয়। তাই মীর জুমলা ও শহীদ মীর মুগ্ধের এ বাংলাদেশে আজকের দাবি হলো- দেশকে সাম্যের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে, কোনো বৈষম্যের স্থান এখানে থাকবে না। দেশে সুবিচার থাকবে, কোনো অবিচার মানুষ সহ্য করবে না। দেশের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নৈতিকতা, মানবিকতা। থাকবে না অসততা, অন্যায়, অনৈতিকতা, অমানবিকতা। দুই মীরের বাংলাদেশে আজ হোক এই শপথ।

লেখক : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

Tuesday, January 21, 2025

মিডিয়াতে অপপ্রচার ও আমাদের দায়িত্ব - ইউনুছ আব্দুদ্দাইয়ান

আগেকার দিনে চিঠি বা দূত পাঠিয়ে সংবাদের আদান প্রদান হতো। আল্লাহর রাসূল (সা) মাঝে মধ্যে পাহাড়ের উপরে উঠে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করতেন যাতে করে দুরবর্তী লোকেরাও তাঁর কথা শুনতে পায় এবং তাঁকে দেখতে পান। রাসূলে কারীম (সা) মাঝে মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাটিতে লাঠি দ্বারা চিত্র অংকন করে সাহাবায়ে কেরামকে বুঝাতেন। কালপরিক্রমায় প্রিন্টেড ও ইলেক্ট্রনিক এই দুই ধরনের মিডিয়ার সাথে আমরা পরিচতি হই। বর্তমানে এর সাথে যোগ হয়েছে অনলাইন ও সোশাল মিডিয়া। মূলত সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, লিফলেট, পোস্টার, ওয়েবসাইট প্রভৃতির মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খবর জানা যায়। বিশেষভাবে অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যেকোন সংবাদ বিশ্বের আনাচে কানাচে অতিদ্রুত ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। এরফলে জনমত গড়ে উঠে। আরব বসন্তের কথা আমরা জানি। আরব বসসন্ত ও পরবর্তীতে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে সরকার পরিবর্তনে কিংবা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে জনমত গঠনে সোশাল মিডিয়া তথা টুইটার, ফেইসবুক ও ব্লগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের তরুণ সমাজ অনলাইন মিডিয়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট। অডিও, ভিডিও, কার্টুন ইউটিউবই ইন্টারনেটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে বিশ্বের প্রায় ৮০% মানুষ টেলিভিশন দেখে। অতএব, মিডিয়া বর্তমান বিশ্বকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। জিম মরিসন যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, Whoever controles the media- controls the mind.

মিডিয়া কোনো একজন ব্যক্তি, বা সংগঠন কিংবা দেশের ইমেজ বৃদ্ধি বা নষ্ট করার ক্ষেত্রেও বিরাট ভূমিকা পালন করে। একজন ভালো মানুষও মিডিয়ার অব্যাহত অপপ্রচারের ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে খারাপ মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে পারে। আমরা দেখি অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হারিয়ে যায় মিডিয়া কভারেজের অভাবে। আর মিডিয়া কভারেজ পেয়ে অনেক নন ইস্যুও ইস্যুতে পরিণত হতে সময় লাগেনা। অখ্যাত যে কোনো ব্যক্তি মিডিয়ার কভারেজ পেয়ে বিশ্ব পরিচিতি লাভ করতে পারে। আফগানিস্তানের কিশোরী মালালা মিডিয়ার বদৌলতেই বিশ্বে এতো খ্যতি অর্জন করেছেন। অথচ মালালার মতো লাখো শিশু-কিশোর পৃথিবীর আনাচে কানাচে নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তার খবরও কেউ জানেনা। মিডিয়ার প্রচারণার ফলেই অল্প সময়ে মানুষের মধ্যে কোনো আদর্শ জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে। আবার কোনো আদর্শ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে বিশ্বজনমত গঠনে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কিন্তু দু:খজনক বাস্তবতা এই যে বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংস্থাগুলো ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণে। রয়টারের ৮০% কর্মকর্তা-কর্মচারী ইহুদী। এসোসিয়েট প্রেস (এপি) এর ৯০% পুঁজিই ইহুদীদের। আমেরিকান ব্রড কাস্টিং কর্পরোরেশান (এবিসি), ন্যাশনাল ব্রড কাস্টিং সিস্টেম (এনবি এস), ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সি এন এন), ফ্রান্স নিউজ এজেন্সেী, বিবিসি প্রভৃতি সংবাদ সংস্থা ইহুদী নিয়ন্ত্রিত। অঅন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পত্রের মধ্যে লন্ডন টাইমস, ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান, অবজারভার প্রভৃতি পত্রপত্রিকাও ইহুদী নিয়ন্ত্রণাধীন। ইহুদীরা মুসলমানদের এক নম্বর শত্রু। তাই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে মুসলমানদেরকে মৌলবাদী (Fundamentalist), সাম্প্রদায়িক (Communal) বর্বর সন্ত্রাসী (Terrorist) হিসেবে চিত্রিত করে বিশ্বব্যাপী ইসলামের নবজাগরণ ঠেকাতে চায়। মুসলিম দেশগুলোতেও তাদের দালালরা একই পরিভাষা ব্যবহার করে ইসলাম, ইসলামী অন্দোলন ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। পাশ্চাত্যের মিথ্যা প্রচারণায় মুসলমানরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েও উল্টো ‘টেরোরিস্ট’ হিসেবে চিহিৃত হচ্ছে।

মিডিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বর্তমানে কাউকে বুঝাতে হবে বলে আমার মনে হয়না। ইসলামের বিরোধিতা যেভাবেই করা হোকনা কেন তার মোকাবিলায় ভূমিকা পালন করা মুসলমানদের উপর অপরিহার্য। যদি মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলামের বিরোধিতা করা হয় তাহলে মিডিয়ার মাধ্যমে তার জবাব দিতে হবে। যদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধিতা হয় সংস্কৃতির মাধ্যমে তার জবাব দিতে হবে। যদি বুদ্ধিবৃত্তিক কুট কৌশলে বিরোধিতা হয় বৃদ্ধিবৃত্তিক কুটকৌশলের মাধ্যমে তার জবাব দিতে হবে। কলমের মাধ্যমে বিরোধিতা হলে কলমের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। মিডিয়া অপপ্রচারের জবাব মিডিয়ার মাধমে না দিয়ে অন্যভাবে দেয়া যায়না। এই প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “শত্রুর মোকাবিলার জন্য যত বেশি সম্ভব যুদ্ধ সরঞ্জাম ও সদাপ্রস্তুত অশ্ব বাহিনী সংগ্রহ করে রাখো। এসব নিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রুদের এবং তারা ছাড়া আরও কিছু লোককে যাদের তোমরা চেননা, আল্লাহ চেনেন, ভীত ও সন্ত্রস্ত করে দিতে পারবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করো তা তোমরা পুরোপুরি ফেরত পাবে। তোমাদের উপর কোনোক্রমেই যুলম করা হবেনা’ -আনফাল ৬০।

আল্লাহ তায়ালা এখানে কুওয়াত বা শক্তি অর্জনের কথা বলেছেন। বর্তমানে আধুনিক যে সমরাস্ত্র আছে তার শক্তি, জ্ঞানের শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর রাসূলের যুগে তীর ও অশ্ব যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন ছিল তাই তিনি তা সংগ্রহ করেছেন। তাঁর সময় বৈষয়িক প্রস্তুতি কাফেরদের তুলনায় কম থাকলেও এমনটি কখনও হয়নি যে, তিনি আদৌ কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেননি। তাই ইসলাম বিরোধীদের অপপ্রচার মোকাবিলায় বিকল্প মিডিয়া করার প্রস্তুতি গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়নে চেষ্টা করা মিডিয়া জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।

আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অনেকেই মুসলমানদের শক্তিশালী মিডিয়া নাই কেন তার জন্য নানা ধরনের প্রশ্ন করছেন। অথচ তাঁদের সামনে যখন মিডিয়ার কোনো প্রজেক্ট প্রস্তাবনা দেয়া হয় তখন তাঁরা বলে বসেন, “টাকা মিডিয়াতে ইনভেস্ট করলে কি লাভ হবে”? অমুক ব্যবসাতে খাটালে এতো % লাভ হবে। আমি মনে করি শুধু নগদ জাগতিক লাভ নয় বরং মিডিয়া চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম ব্যবসায়ীদের একটি অংশকে আন্তর্জাতিক মানের অনলাইন, প্রিন্টেড ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করা ও ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া উদ্যোগসমূহকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টেড কিছু মিডিয়াতে ইসলাম ও মুসলমানদের অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নেহায়েতই কম। তবে ইউরোপে এখনও মূলধারার কোনো মিডিয়া মুসলমানদের নেই বললেই চলে। তাই মুসলমানদেরকে এই দিকে গুরুত্বের সাথে নজর দেয়া উচিত।

এছাড়া প্রতিনিয়ত মিডিয়াতে ইসলাম সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়। সে সম্পর্কে ভারসাম্যমূলক জবাব আসা দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে মুসলমানদের তেমন কোনো স্পোকসম্যান নেই। তাই মিডিয়াতে ভারসাম্যমূলক বক্তব্য তুলে ধরার মতো যোগ্য লোক তৈরি করতে হবে। মিডিয়াতে নেতিবাচক প্রচারণার ফলে অনেক মানুষ বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামের প্রকৃত রূপ মিডিয়াতে তুলে ধরা। কিন্তু কারো কারো প্রবণতা হচ্ছে বসে বসে শুধু সমালোচনা করা। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, সমালোচনা করা সহজ কিন্তু বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং উক্ত উদ্যোগকে সফল করা কঠিন। এছাড়া মিডিয়াতে ভূমিকা রাখার মতো যাদের যোগ্যতা আছে তারা প্রতিনিয়ত লেখা-লেখি করা এবং শক্তিশালী মিডিয়া প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

মিডিয়া কর্মীদেরকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা দরকার। আর মুসলমানদেরকেও নিজস্ব মিডিয়া তৈরি করার প্রতি সিরিয়াস হতে হবে এবং মুসলিম মিডিয়া কর্মীদেরকে মেইনস্ট্রিম মিডয়াসমূহে কাজ করার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। পাশ্চাত্যের মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা মিডিয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আসল পথ নয়। এর আসল জবাব হচ্ছে ‘বিকল্প শক্তিশালী মিডিয়া’।

মিডিয়াতে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণার ইতিবাচক ফলও রয়েছে। পাশ্চাত্যের অনেক চিন্তাশীল মিডিয়াতে ঢালাওভাবে ইসলাম সম্পর্কে বিষোদাগার করায় তারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং তাদের মনের নানা প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে সত্যের সন্ধ্যান খুঁজে পান। এছাড়া মুসলমানদের একটি অংশ যারা ইসলাম ভালোভাবে জানতোনা তারা সহকর্মী ও বন্ধুদের নানা প্রশ্নের সঠিক জবাব জানতে গিয়ে নিজেরা ভালোভাবে ইসলাম জানার চেষ্টা করছে। এরফলে যেসব মুসলমান আগে ইসলাম অনুশীলন করতেননা তাঁরা ইসলাম অনুশীলন শুরু করেন। যেসব মুসলিম মহিলা আগে হিজাব পরিধান করতেননা তাঁরা হিজাব পরিধান করা আরম্ভ করেন। তাঁদের মাঝে ইসলামের প্রতি মহব্বত ও আকর্ষণ অনেকগুণ বৃদ্বি পাচ্ছে।

ইসলাম সম্পর্কে মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণার ফলে অমুসলিম চিন্তাশীলদের কেউ কেউ কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেন এবং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। এই প্রসংগে একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারে অংশ গ্রহণ করি; তুরুষ্কের ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগান উক্ত সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন। রাত দশটার দিকে সেমিনার শেষ হওয়ার পর লন্ডন ফেরার পথে অক্সফোর্ড বিশ্বদিল্যায়ের একজন ছাত্রী ও দুইজন ছাত্রের সাথে পরিচয় হয়। আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে জানলাম উক্ত ছাত্রীর নাম মারইয়াম এবং সে নও মুসলিমাহ। আমি তার কাছে ইসলাম গ্রহণ করার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলাম। প্রতি উত্তরে সে জানায় যে তার বাড়ি ফ্রান্সে। তার পিতা-মাতা ও পুরো পরিবার প্রচ-ভাবে মুসলিম বিদ্বেষী ছিল। ৯/১১ এর পর তার পিতা একটি বই তাকে পড়ার জন্য দেয়। উক্ত বইতে মুসলমানদেরকে কুকুরের সাথে তুলনা করা প্রচ-ভাবে ঘৃণা ছড়ানো হয়। মারইয়াম এই ধরনের মন্তব্য পাঠ করার পর চিন্তা করে “আসলেই মুসলমানরা কি এতো বেশি খারাপ? সে এই প্রশ্নের জবাব জানার জন্য তার মুসলিম বন্ধুদের সাথে মত-বিনিময় করতে আগ্রহী হয়। মুসলিম বন্ধুরা তাকে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনার পরিবর্তে তার সকল প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাবার জন্য কুরআন অধ্যয়ন করার উপদেশ দেয়। সে তাদের উপদেশমতো কুরআন পাঠ করা শুরু করে। কিন্তু প্রথম তিন মাস কুরআন পাঠ করে কোনো মজা অনুভব করেনি। তার মতে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে কুরআন পাঠের চেষ্টা করায় প্রথম তিন মাস সে কোনো মজা পায়নি। তিন মাস পর উন্মুক্ত মন-মগজ নিয়ে কুরআন পাঠ শুরু করার পর তার মনে হয়েছে কুরআনের প্রতিটি আয়াত যেন তার মনের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। এইভাবে ছয়মাস তিলাওয়াত করে কুরআন পাঠ শেষ করে। কুরআন পাঠ করতে গিয়েই সে নিজেকে ‘কুরআনী’ বলে পরিচয় দেয়া শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ইসলাম কবুল করেন। মারইয়াম আল-কুরআন অধ্যয়ন করেই ইসলাম কবুল করে। কিন্তু তার মতে কুরআন পাঠ করে ইসলাম জানার চেষ্টা না করলে তার পক্ষে ইসলাম কবুল করা হয়তো বা সম্ভব হতোনা। কেননা কুরআনে ইসলামের যেসব বিধান চমৎকারভাবে বিবৃত আছে তা খুব কম মুসলমানই অনুসরণ করে।

উপরের ঘটনা থেকে এই বাস্তব সত্য ফুটে উঠেছে যে, অনেক অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে পরিচালিত অপপ্রচারের জবাব খুঁজতে গিয়েই ইসলামের সুমহান আদর্শের সন্ধান পায়। এছাড়াও মুসলমানদের সাথে উঠা-বসা, লেন-দেন করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অমুসলিমদের কেউ কেউ ইসলাম কবুল করছে। অতি সম্প্রতি ইস্ট লন্ডন মসজিদে একটি যুবক ইসলাম কবুল করে। ইসলাম কবুল প্রসংগে সে জানায় যে, দীর্ঘদিন ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে আরো জানায় যে, তার মুসলিম বন্ধুদের চলাফেরা, কথা-বার্তা, উঠা-বসা, লেন-দেন প্রভৃতি তাকে বিমোহিত করে। এইভাবে অনেক মুসলমান সত্যের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেদের জীবন গড়ার চেষ্টা করছেন এবং তাঁদেরকে দেখেই চিন্তাশীল অনেক অমুসলিম এই কথা অকপটে স্বীকার করছেন যে, “মুসলিমরা সন্ত্রাসী নয় বরং পরোপকারী’’। এই প্রসংগে একটি বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যে একজন অমুসলিম তার ঘর বিক্রির সময় পার্শ্ববর্তী ঘরের চেয়ে তার ঘরের মুল্য ত্রিশ হাজার পাউন্ড বেশি দাবি করে। এজেন্ট বেশি মূল্য চাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জবাব দেন যে, “আমার পার্শ্বে একজন পরোপকারী মুসলিম ভালো প্রতিবেশী রয়েছেন। তিনি কাউকে কষ্ট দেননা বরং সব সময় প্রতিবেশীর প্রতি যত্নশীল থাকেন। যেকোন স্থানে ঘর কেনা সম্ভব কিন্তু ভালো প্রতিবেশী পাওয়া কঠিন’।

পাশ্চাত্যে ও বিভিন্ন মুসলিম দেশে কিছু ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টেড মিডিয়াতে অব্যাহতভাবে ইসলাম বিরোধী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। কিছু মিডয়াতে মুসলমানদেরকে টেরোরিস্ট হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে এবং ইসলামকে পাশ্চাত্যের জন্য হুমকি স্বরূপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। ইউরোপে যে শতাব্দীকাল থেকে মুসলমানদের বসবাস রয়েছে সে কথা প্রকাশ না করে শুধু ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে এবং মুসলানরা ইউরোপের মুলস্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে তারা মনে করে। তাদের প্রচারণা হচ্ছে, ইসলাম আজকের যুগে অচল এবং মুসলমানরা রক্ষণশীল, উগ্র ও টেরোরিস্ট। মিডিয়াতে মুসলমানদের বিরদ্ধে এই ধরনের প্রচারণার ফলে মুসলমানদের উপর বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের উপর গ্যাং এ্যটাক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই Q News এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ফুয়াদ নাহদী পাশ্চাত্যের মিডিয়ার সমালোচনা করে বলেন, A western news agenda dominated by hostile, careless coverage of islam distors reality and destroys trust. Western reports, when positive, are seen as selective and partisan; when negative, hypocritical and insensitive (Diana Abdel- Maged, The British Media: Fair or biased )

একশ্রেণীর পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক অপপ্রচারের কারণে বাস্তব অবস্থা খারাপভাবে চিহ্নিত হচ্ছে এবং আস্থা নষ্ট করছে। কোনো ইতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা হয় বাছাই করা এবং একপেশে। আর যখন কোনো নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরা হয় তা জয় মোনাফেকি সূলভ এবং অসংবেদনশীল। (ডায়ানা আবদেল মাজেদ. দি ব্রিটিশ মিডিয়া : ফেয়ার অর বায়াসড) কিছু মিডিয়া নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি পোষণ করলেও যেকোন সন্ত্রাসী ঘঁটনার জন্য মুসলমানদেরকে অভিযুক্ত করার একটা প্রবণতা প্রায় সকল মিডিয়াতেই রয়েছে। যেকোন ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে সকল মুসলমানকে দায়ী করা যৌক্তিক নয়। ইতোপূর্বে সন্দেজনকভাবে বিভিন্ন ঘটনায় যাদেরকে আটক করা হয়েছিল তাদের অনেকেই পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন; তাঁদের কেহই কথিত ঘটঁনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা। তাই সন্ত্রাসের সাথে ইসলাম ও মুসলমানকে ঢালাওভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই। যেমনিভাবে খৃস্টান ও ইয়াহুদী কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে তার জন্য পুরো খৃস্টান বা ইয়াহুদী ধর্মাবলম্বীকে দায়ী করা যায়না। কতিপয় মিডিয়ার প্রবণতা হচ্ছে মুসলমান কেউ সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ত হবার সন্দেহের তালিকায় থাকলেও তা যেভাবে ফলাও করে ছাপা হয় অপরদিকে একই ধরনের ঘটনা কোনো নন-মুসলিম করলে তা মিডিয়াতে উপক্ষো করা হয়। এই সস্পর্কে বিগত ৭ই ডিসেম্বর ২০০৯ ’ দি মুসলিম পোস্ট পত্রিকায় এইভাবে শিরোনাম করা হয়, Media Silent as non-Muslim bomb makers pleads guilt। উক্ত রিপোর্ট অনুসারে Terence Gavan নামক বৃটিশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টির জনৈক মেম্বার বোমা তৈরিসহ ২২ টি ঘটঁনায় অভিযুক্ত হয়। এর মাঝে ৬টি টেরোরিজম এ্যাক্টের অধীন ছিল। Woolwich Crown Court তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়। অথচ বোমা সন্ত্রাসের মত ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও বৃটিশ মিডিয়া তা উপেক্ষা করে। কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহের তালিকায় থাকার কারণে অনেক মুসলমানের ছবি ফলাও করে ছাপা হয়। এধাধহ যদি মুসলমান হতো তাহলে প্রায় সকল পত্রিকাতেই সম্ভবত হেডলাইন করা হতো এভাবে ÒIslamic terrorist found guilty of possessibg bomb factory/Evil Muslim bomb maker admits guilty/Mastermind Muslim bomb expert Guilty ... বাংলাদেশে কিছু মিডিয়া আন্তর্জাতিক কতিপয় মিডিয়ার মতো জঙ্গি, টেরোরিস্ট, আল কায়েদা, তালেবানী রাষ্ট্র ইত্যাদি পরিভাষা একইভাবে ব্যবহার করে। ধর্মীয় সংখ্যা লঘুদের উপর নির্যাতনের কল্পিত কাহিণী প্রচার করে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করে তারা ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে তারা দেশে-বিদেশে নেতিবাচক ধারণা দিতে চায়। তারা ইসলামী আন্দোলনন ও তার নেতৃত্ব সম্পর্কে মনগড়া রিপোর্ট প্রচার করছে অথচ তাঁদের বক্তব্য, স্টেমেন্ট পত্রিকায় ছাপায়না। তারা আওয়ামী-ছাত্রলীগ কর্তৃক মন্দির ভাংগা হলেও জামায়াত-শিবেরর উপর তার দায় বর্তায় অথচ জামাত শিবিরের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় যে মন্দির পাহারা দেয় তার সংবাদ ও ছবি ছাপায়না। অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদ ব্কিৃত করে প্রচার করছে যার ফলে সত্যিকার অপরাধীরা আরও অপরাধ করতে উতসাহীত হয়। যেমন নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যার পর প্রথমেই জামায়াত-শিবিরের উপর দোষ চাপায়। অথচ ত্বকীর পিতা পরে স্পষ্ট করেই বলে দেয় যে, “এর সাথে জামাত শিবিরের কেউ সম্পৃক্ত নয়। আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাই জড়িত‘। আভ্যন্তরীন রাজনীেিত বিদেশেী হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র তৈরি করে। কিছু পত্রিকায় বিদেশেী কয়েকজন রাষ্ট্রদুতের বক্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী-ও বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। কিছু মিডিয়াতে বাংলাদেশকে অকার্যকর জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। এমনকি সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের জীবন ধারা মুল্যবোধ কটাক্ষ করা হয়। দাঁড়ি টুপী ধারীদেরকে রেডিও টিভিতে নাটক উপন্যাসে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে দর্শকের ঘৃণা জন্মে।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া সাধারণত লোকাল মিডিয়াকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে। এরফলে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে নেতিবাচক প্রচারণা চলে যার ফলে প্রকারন্তরে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ দেশ গড়ার জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরী। জঙ্গিবাদের উথ্যান হতে তা সহায়তা করছে। জনগনের মধ্যে দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে অথচ বাংলাদেশ হচ্ছে অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। আমাদের দেশের নদ-নদীতে মাছ আছে; বনে জংগলে কাঠ আছে। জমিতে হরেক রকমের ফসল ফলে। গ্যাস ও কয়লার খনি আছে। এই সকল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাবার জন্য আছে মানব সম্পদ। তাই মানব সমপদকে কাজে লাগানোর জন্য রাজনৈতিক স্থিতীশীলতার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। মেধাবীদেরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগীতে না দেখে তাদেও মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো প্রয়োজন। পর্ণোগ্রাফী যুব চরিত্র নষ্ট করছে। অথচ যুবকরাই হচ্ছে দেশের কর্মক্ষম জনশক্তি।

মিডিয়াতে যারা কাজ করেন তাদের অনেকই বিশ্বাস ও চেতনায় ইসলাম বিদ্বেষী। ভিনদেশীদের এজেন্ট হিসেবে কেউ কেউ দায়িত্ব পালন করেন। এই জন্য তাঁরা মাসিক ভাতা পান। ব্যবসায়ী মিডিয়া মালিকরা নিজেদের স্বার্থের কারণে একজনের অপরাধ আরেকজনের উপর চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামা চাপা দিতে চায়।

হতাশা বা সমালোচনা নয় প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ ও সহযোগিতার : আফসোস হচ্ছে মুসলমানদের হাতে প্রচুর সম্পদ আছে। আলজাজিরা বাদ দিলে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার মত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া নেই। দি টাইমস, দি গার্ডিয়ান, দি ইন্ডেপেন্ডেন্স এর মত আন্তর্জাতিক মানের কোনো পত্রিকা নেই। তাই মুসলমানেরা পাশ্চাত্যে মিডিয়ার আক্রমন ও অপপ্রচারের শিকার। কেননা অপপ্রচারের জবাব দেয়ার মত কোনো শক্তিশালী মাধ্যম মুসলমানদের হাতে নেই। এমতাবস্থায় মুসলিম তরূন সমাজের যাদের মিডিয়া স্টাডিজ পড়ার আগ্রহ আছে তাদেরকে মিডিয়া কর্মী হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনের পরিকল্পনা নেয়া সময়ের অনিবার্য দাবি। রেডিও, টিভি ও পত্রপত্রিকায় কাজ করা মুসলিম তরূন সমাজের একটি অংশের ক্যারিয়ার ফিল্ড হওয়া উচিত। যারা সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত তাদের প্রশিক্ষন কর্মসুচী থাকা দরকার। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। নিজেদের সাধ্যমত অনলাইন পত্রিকা, ব্লগও ওয়েবসাইট চালু করা যায়। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উদ্যোগ মিডিয়া হাউজ করা যেতে পারে। মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধি করে তাদের নানা লেখনীতে নিজেদের কিছু ইস্যু নিয়ে আসার চেষ্টা করা। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট করে সাংবাদিকদের বৃত্তি ও চিকিতসা সেবা করা দরকার। গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং টীম করা প্রয়োজন –তারা বিভিন্ন মিডিয়া মনিটরিং করবেন এবং অনলাইন আক্রাইভ রাখবেন। মিডিয়াতে স্পোকস পারসন হিসেবে বিভিন্ন ভাষায় পারদশী একটি গ্রুপ সৃষ্টি করতে হবে।

মিডিয়ার নাই নাই বলে হা হুতাশ করে যেমনি মিডিয়া অভাব পুরণ করা যাবেনা। তেমনিভাবে সফল মিডিয়া গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ খরচের মানসিকতা না থাকলে মিডিয়া প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হবেনা। এই প্রসংগে অনেক দিন আগে শুনা একটি গল্প মনে পড়ছে। একজন লোক খাবার সহ কুকুরকে নিয়ে পথ চলছে। কিছু দুর যাওয়ার পর কুকুরটি ক্ষুধায় ছটফট কওে মারা যাওয়ার উপক্রম। লোকটি তা দেখে কাঁদছে। আরেকজন পথিক তার কান্নার কারণ জানতে চায়। তিিেন জবাবে বলেন, “ভাই আমার কুকুর ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে তাই কাঁদছি”। লোকটি আবার জানতে চায় “তোমার সাথে এগুলো কি”? তিনি জবাব দেন “এগুলো খাবার”। পথিক তাকে বলে, “তোমার খাবার থেকে কিছু খাবার দিলেইতো কুকুরটির ক্ষুধা নিবারন হয়”। লোকটি জবাব দেয় “ভাই কাঁদতে পয়সা লাগেনা কিন্তু খাবার দিলেতো পয়সা খরচ হয়”। আমাদেরকে মিডিয়ার জন্য শুধু কাঁদলে হবেনা প্রূেয়াজনের আলোকে অর্থ খরচ করতে হবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও মিশনারী টাগেট নিয়ে কিছু মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের পর ব্যবসায়ীদের ইনভেস্টমেন্ট কিছু পত্রিকা ও স্যটেলাইট চ্যানেল চালু করা হয়। বিদেশী সাহায্যেও কিছু মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই তাদের অর্থের অভাব হয়না। কিন্তু যারা ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী তাদেরকে নিজের পকেটের টাকা খরচ করেই মিডিয়া করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক কিছু ব্যক্তিকে অর্থ উপর্জনের মেধা দিয়েছেন আর কিছু ব্যক্তিকে মিডিয়া কর্মী হওয়ার যোগ্যতা দান করেছেন। মিডিয়া কর্মীদের অনেকর কাছে অনকে সুন্দর পরিকল্পনা আছে কিন্তু উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নাই। আর কিছু ব্যক্তির অর্থ আছে কিন্তু তাদের কাছে কোনো প্রজেক্ট নাই। যাদের অর্থ আছে তারা এমন জায়গায় ইনভেমস্ট করতে চান যেখান থেকে দ্রুত রিটার্ন আসবে। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সঠিক। কিন্তু মুসলিম কিছু ব্যবসায়ী ও সামর্থবান বিত্তশালীরা যদি মিডিয়া, রিসার্চ, থিঙ্ক ট্যাঙ্কসহ জ্ঞান গবেষনার কাজে বিনিয়োগ না করেন তাহলে তাদের অধিক মুনাফার জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থ তাঁরা যে ভোগ করতে পারবেন তার কি কোনো নিশ্চিয়তা আছে? আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অনেক ধনী ব্যক্তির কথা জানি যাঁরা দুনিয়ার মোড়লদের অনুমতি ছাড়া নিজের এ্যকাউন্ট থেকে নিজের খরচের জন্যও টাকা উত্তোলন করতে পারছেননা। তাই সময়ের অনিবার্য্য দাবি পুরণে ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্টেড, অনলাইন ও সোশাল মিডিয়ায় কাংখিত ভূমিকা পালন করা জরুরী।

Monday, January 6, 2025

২০২৫ সেশনের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার সেটআপ সম্পন্ন

২০২৫ সেশনের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার সেটআপ সম্পন্ন

সভাপতি : আবু হানিফ হেলাল
সেক্রেটারি : ইমাম হোসেন আরমান

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর একান্ত মেহেরবানিতে ২০২৫ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারি মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ ০৩ জানুয়ারী ২০২৫ বাদ জুমআ ফেনী দারুল ইসলাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার সদস্যদের নিয়ে সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঞ্চালনায় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রআন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলামের পরিচালনায় নতুন সেশনের সেটআপ ঘোষনা করা হয়।

সমাপনী সেশনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রআন্দোলন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী শহর শাখার সভাপতি আবু সাঈদ সুমন, ফেনী শহর শাখার সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার সাবেক সভাপতিবৃন্দ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. জামাল উদ্দিন, ফেনী জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আ.ন.ম আবদুর রহিম।

পরিশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমীর মুফতি আব্দুল হান্নান হুজুরের নসিহত ও মুনাজাত পরিচালনার মাধ্যমে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।