Close
Showing posts with label আলোচনা নোট. Show all posts
Showing posts with label আলোচনা নোট. Show all posts

Saturday, May 16, 2026

উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে দায়িত্বশীলের করণীয়

উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে দায়িত্বশীলের করণীয়

উপশাখা কী?

কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনস্থ শাখাসমূহের আওতায় সারা দেশের সংগঠনকে যে ক্ষুদ্রতম কর্মক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয় তাই উপশাখা। উপশাখা হচ্ছে সংগঠনের মৌলিক স্তর। যে শাখায় উপশাখাসমূহ যত বেশি শক্তিশালী, সক্রিয় ও নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম, সে শাখা তত বেশি সামগ্রিক কাজের দিক দিয়ে অগ্রগামী। আর উপশাখা যেখানে দুর্বল, সেখানে সংগঠনের গতিও শ্লথ। আর তাই উপশাখা সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের মাধ্যমেই একটি আদর্শের অনিবার্য বিজয় সুনিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ। আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য, করণীয় ও নিয়মিত কার্যক্রমসমূহ নিম্নোক্ত বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো-


দায়িত্বশীল 

যিনি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে ময়দানের চাহিদা অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে কর্মী পরিচালনা করেন, তাকে দায়িত্বশীল বলে। 


উপশাখার পরিচয়

সংগঠন স্বীকৃত প্রাথমিক ইউনিট।

বাস্তব কাজের ক্ষেত্র।

Recruiting Centre.

Supply Center.

Production Center.

One kind of industry.


উপশাখার গুরুত্ব

উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে।

রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

প্রচুর সংখ্যক সমর্থক, বন্ধু ও সাধারণ ছাত্র উপশাখার সাথে জড়িত থাকে।

দাওয়াতি কাজের আসল ক্ষেত্র।

নেতৃত্ব তৈরির প্রাথমিক স্তর।


উপশাখার একটি উদাহরণ

উপশাখা হলো রশি, জাল ও সিসা সংবলিত মাছ শিকারের ১টি জালের মতো। রশি ও জাল যতই মজবুত হোক, সিসা না থাকলে যেমন কাঙ্ক্ষিত মাছ শিকার করা যায় না, অনুরূপভাবে আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিক আছে মনে হলেও উপশাখার কার্যক্রম যথাযথ না থাকলে সংগঠন দুর্বলই থেকে যায়। আদর্শ সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো মজবুত উপশাখা।


আদর্শ উপশাখার বৈশিষ্ট্য

১. চেইন অব লিডারশিপ (নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা) থাকা।

২. নিয়মিত বৃদ্ধি (সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু, সুধী) হওয়া।

৩. ব্যয় অনুযায়ী আয় নিশ্চিত হওয়া।

৪. সকল ধরনের তালিকা ও রেজিস্টার আপডেটেড থাকা।

৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকা।


আদর্শ উপশাখার করণীয়

১. উপশাখার কর্মী বৈঠকে মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/থানা দায়িত্বশীলকে দেখানো।

২. প্রতিমাসে ৪টি মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। মাসের ১ম সপ্তাহে কুরআন তালিম, ২য় সপ্তাহে সামষ্টিক পাঠ, ৩য় সপ্তাহে যেকোনো একটি দাওয়াতি প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, ফলচক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, কুইজ প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম ইত্যাদি) এবং শেষ সপ্তাহে কর্মী বৈঠকের আয়োজন করা।

৩. উপশাখায় একটি দাওয়াতি গ্রুপ নিশ্চিত করে প্রতি সোমবারে গ্রুপ দাওয়াতিবার পালন করা। গ্রুপ দাওয়াতি কাজের স্থান ও সময় নির্ধারণ করে পূর্বেই অগ্রসর কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া এবং তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে বাংলা কিশোর পত্রিকা, স্টিকার-কার্ড, দাওয়াতি বই বিক্রয় ও বিতরণ করা।

৪. মাসের প্রথম সপ্তাহে সকল কর্মী-সক্রিয় সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট থেকে বায়তুলমাল সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন সংগঠনের নিকট জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ ও আয় বৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। পাশাপাশি টেবিল ব্যাংক, দোকান বাক্স ও কলসের মাধ্যমে ছাত্রকল্যাণ আদায় করা।

৫. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের কোনো প্রোগ্রাম থাকলে সেই কর্মসূচিতে সকল কর্মী-সমর্থকদের যথাসময়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৬. মাস শেষে নির্ধারিত ফরমেটে সকল কাজের রিপোর্ট তৈরি


করা ও খাতায় ওঠানো। উপশাখা দায়িত্বশীল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট পেশ করা এবং এক কপি ঊর্ধ্বতন সংগঠনে জমা দেওয়া। দায়িত্বশীল ভাইদের পর্যালোচনা ও পরামর্শ উপশাখা রেজিস্টারের নির্ধারিত পাতায় নোট করে দায়িত্বশীল ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া।

৭. কর্মী বৃদ্ধির জন্য টার্গেটকৃত সমর্থকদের মাসের শুরুতেই (প্রথম তিন দিনের মধ্যে) রিপোর্ট বই/ফরম পৌঁছানো, মাসব্যাপী তত্ত্বাবধান, সাহচর্য প্রদান এবং মাসের শেষে ব্যক্তিগত রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করা।

৮. প্রতিমাসে পাঠাগারে বই বৃদ্ধির প্রচেষ্টা এবং জনশক্তিকে নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করা। সকল কর্মী-সমর্থকের নিকট প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি বই পৌঁছানো এবং বইটি পড়া হয়েছে কিনা তদারকি করা। প্রদানকৃত বইয়ের ইস্যু রেজিস্টার নিশ্চিত করা।

৯. উপশাখায় প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ জন কর্মী, ২ জন সমর্থক, ৩ জন বন্ধু এবং ১ জন শুভাকাঙ্ক্ষী বৃদ্ধি করা।

১০. উপশাখা রেজিস্টার খাতায় নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ করা (কার্যবিবরণী, বায়তুলমাল রিপোর্ট, জনশক্তির তালিকা ইত্যাদি)।

১১. উপশাখার প্রোগ্রামসমূহে উপস্থিত মেহমানবৃন্দের নাম ও দায়িত্ব কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা।


উপশাখা মজবুতিতে করণীয়

১. উপশাখার এরিয়া ও সামগ্রিক অবস্থা (রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক পরিবেশ) সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান রাখা।

২. ৫ম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের সকল ছাত্রদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ। এক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র, স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র, অমুসলিম ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পৃথক পৃথক তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি সকল তথ্য ও তালিকার যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

৩. ৪ ক্যাটাগরির (সিঙ্গেল ডিজিট, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, প্লেসধারী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান) ছাত্রদের মাঝে টার্গেট করে কাজ করা। পাশাপাশি সমাজের প্রভাবশালী মহলের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি।

৪. কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা ও সংগঠনের মাঝে টিম স্পিরিট সৃষ্টি।

৫. বেইজ এরিয়া তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৬. নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই আলোকে উপযুক্ত কর্মী গঠন করা।


ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি

১.  ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজের সূচনা করা।

২. নিয়মিত সাক্ষাৎ ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে আস্থাভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া।

৩. সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সে সংগঠনকে পছন্দ না করলে কিংবা সংগঠনের সাথে আমার সম্পৃক্ততা জেনেও আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে দ্বিধা করবে না।

৪. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমধারা অবলম্বন করে দাওয়াত পৌঁছাতে উদ্যোগী হওয়া।

৫. দায়ীর বৈশিষ্ট্য অর্জন ও ধারণ করা।

৬. কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্রমান্বয়ে কর্মী পর্যায়ে নিয়ে আসা।


কর্মীগঠন প্রক্রিয়া

১. যোগাযোগকারীর বৈশিষ্ট্য অর্জন

২. সাহচর্য দান

৩. মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে সাহচর্য প্রদান

৪. পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ ও সুন্দর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা

৫. ছোটোখাটো দায়িত্ব অর্পণ

৬. অর্থদানে উদ্বুদ্ধকরণ

৭. প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান

৮. দাওয়াতি কাজে সক্রিয়করণ

৯. কাজের রিপোর্ট গ্রহণ

১০. আল্লাহর নিকট দোয়া করা


উপশাখা দায়িত্বশীলের গুণাবলি

১. জ্ঞানের ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া।

২. আমল ও মুয়ামেলাতের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।

৩. নৈতিক মানে শ্রেষ্ঠ হওয়া।

৪. জনশক্তিদের (কর্মী ও সমর্থক) মধ্যে সবচাইতে আস্থাভাজন ব্যক্তি হওয়া।

৫. সবর/ধৈর্যশীল হওয়া।

৬. সাহসিকতাপূর্ণ হওয়া।

৭. জরুরি বা যেকোনো পরিস্থিতিতে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী।

৮. ভ্রাতৃত্ব ও প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা।

৯. ত্যাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী হওয়া।

১০. জনশক্তিদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা।

১১. সুবক্তা।

১২. নথিপত্র ও হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শী।


উপশাখা দায়িত্বশীলের জন্য আবশ্যক 

ময়দানগত

* উপশাখার এরিয়া সর্ম্পকে জানা

* প্রতিদিন গড়ে ১ ঘন্টা সময় দেওয়া

* সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণ

* যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মবণ্টন

* উপযুক্ত তত্ত্বাবধান

* সংবাদ আদান প্রদান

* নিয়মিত দাওয়াতি কাজ করা (স্কুল, খেলার মাঠ, মেস, মসজিদ)

* দাওয়াতি উপকরণসহ এক মসজিদে আসর অন্য মসজিদে মাগরিব নামাজ আদায় করা।


জ্ঞানগত

* কুরআন-হাদিসের জ্ঞান

* সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আয়ত্ত করা

* সংগঠনের স্ট্রাকচার জানা

* সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানা


আমলগত

* উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া

* আস্থাভাজন হওয়া

* ধৈর্যশীল হওয়া

* আমানতদার হওয়া

* ইনসাফ কায়েম করা


উপশাখার প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রামসমূহ ফলপ্রসূ করতে করণীয়

১. পূর্বেই বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কর্মী-সমর্থকদের ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার অনুভূতি, সাংগঠনিক বুঝ, জ্ঞানগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বিষয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

২. প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর পরিচালকের পর্যাপ্ত স্ট্যাডি করা প্রয়োজন। কুরআন-হাদিসের আলোকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে বোঝানোর বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের (ওয়ার্ড/থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল) দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে।

৪. ছুটির দিনে অথবা ছাত্রদের অ্যাকাডেমিক শিডিউল বিবেচনায় নিয়ে প্রোগ্রামের সময় নির্ধারণ করা।

৫. সামর্থ্যের আলোকে আকর্ষণীয় নাস্তার আয়োজন রাখা।

৬. প্রোগ্রামগুলোকে ইফেক্টিভ করতে মাঝে মধ্যে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রতিযোগিতা/পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৭. মাঝে মধ্যে পূর্বের প্রোগ্রামের রিভিউ নেওয়া; কতটুকু মনে রাখতে বা ধারণ করতে পারল।

৮. ন্যূনতম তিন দিন পূর্বে প্রোগ্রামের দাওয়াতি কাজ করা প্রয়োজন।


২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা-সংক্রান্ত আলোচনা 

২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় উপশাখা মজবুতকরণকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সাংগঠনিক সেশনের স্লোগানটিই উপশাখাকে হাইলাইটস করে নেওয়া হয়েছে। এ বছরের স্লোগান হলো-

মজবুত উপশাখা, ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ

গড়ে তুলি প্রজন্ম, সফল করি আন্দোলন


এ ছাড়াও উপশাখা সংক্রান্ত নিম্নোক্ত বিষয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যমান-

মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি-২

জনশক্তিকে সাহচর্য প্রদান, সুষম কর্মবণ্টন, প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন সম্প্রসারণ ও উপশাখা মজবুতিকরণ।

একনজরে অর্জিতব্য টার্গেটসমূহ-(সংগঠন)

সকল নিষ্ক্রিয় উপশাখাকে সক্রিয়করণ এবং নতুন করে ২৮% উপশাখা তথা ১০০০০টি উপশাখা বৃদ্ধি করা হবে। 


কর্মপরিকল্পনাসমূহ

১ম দফা : দাওয়াত

১.১.৪. উপশাখাকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনের সকল স্তরে মাসে ন্যূনতম ১টি করে দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে।

১.১.৮. দাওয়াতি মিশনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে ‘যত মাঠ তত টিম’ গঠন করা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আবাসিক সংগঠনসমূহ উপশাখাভিত্তিক কমপক্ষে ১টি করে স্পোর্টস টিম গঠন নিশ্চিত করবে।

১.১.১১. সকল জনশক্তিকে দাওয়াতি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি সোমবার সাপ্তাহিক গ্রুপ দাওয়াতি বার পালন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক উপশাখা কমপক্ষে ১টি গ্রুপ বের করবে।


২য় দফা : সংগঠন

২.১.১. নতুন উপশাখা বৃদ্ধির লক্ষ্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বছরের শুরুতেই সংগঠন নেই এমন প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহের তালিকা তৈরি করে জনশক্তিদের মাঝে কাজ বণ্টন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণের মাধ্যমে টার্গেটকৃত প্রতিষ্ঠান ও এলাকাসমূহে নিয়মিত সফর, তদারকি করা ও প্রতিমাসে পর্যালোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি আবাসিক থানা প্রশাসনিক ভোটকেন্দ্রকে ভিত্তি করে উপশাখা বৃদ্ধির জন্য টার্গেট নেবেন।

২.১.২. উপশাখাসমূহের মজবুতি অর্জন ও শতভাগ সক্রিয়করণের লক্ষ্যে সেশনের শুরুতেই সকল উপশাখার সেটআপ সম্পন্ন করা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও রেজিস্টার খাতা হালনাগাদ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

২.১.৪. শাখা ও থানাভিত্তিক উপশাখা দায়িত্বশীল সমাবেশ ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস অন্তর উপশাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম নিশ্চিত করা হবে।

২.১.৫. যেসব আবাসিক এলাকায় সংগঠন নেই সেখানে উপশাখা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সমর্থক সংগঠন তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হবে। এক্ষেত্রে মসজিদকে কেন্দ্র করে উপশাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

২.১.৬. সংগঠন সম্প্রসারণ ও গণভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে শতভাগ উপজেলা পৌরসভা এবং ইউনিয়নে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে এবং ইউনিয়নের ১০% ওয়ার্ডকে উপশাখা মানের ও বাকিগুলোতে সমর্থক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা।

২.১.৭. সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতিকরণের লক্ষ্যে থানা, ওয়ার্ড/ইউনিয়ন ও উপশাখার তত্ত্বাবধায়কগণ তত্ত্বাবধানকৃত এলাকায় পরিকল্পিত সময়দান এবং বেইজ এরিয়া সংশ্লিষ্ট থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফর করার চেষ্টা করবেন।


উপশাখার কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি

* কুরআন তালিম

* সামষ্টিক পাঠ

* চা-চক্র

* সাপ্তাহিক সাধারণ সভা

* মাসিক সাধারণ সভা

* কর্মী বৈঠক

* সমর্থক শিক্ষাবৈঠক

* সাধারণ জ্ঞানের আসর

* গ্রুপ দাওয়াতি কাজ


শেষ কথা

আমাদের আদর্শের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় সংগঠন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পলিসি উদ্ভাবনের কাজ করে থাকে। মাঠ পর্যায়ে উপশাখা সংগঠনই কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকে। তাই সংগঠনের উপশাখা যত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে সংগঠন তত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে। করো না মহামারি পরবর্তী সময়ে উপশাখা পর্যায়ে কাজ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

উপশাখার প্রোগ্রাম এবং উপশাখার অন্যান্য কার‌্যাবলি শতভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল, অনলাইন এবং মাদকাসক্তি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধ ও ইসলামী অনুশাসনে আগ্রহী করে তুলতে উপশাখা দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দায়িত্বশীলদের জ্ঞানগত ও আমলগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপশাখার কাজগুলো আদর্শ মানে উন্নীত করার মাধ্যমে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হবে, ইনশাআল্লাহ।

Friday, August 22, 2025

বইনোট : শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামী রূপরেখা | অধ্যাপক গোলাম আযম (রাহি.)

বইনোট : শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামী রূপরেখা | অধ্যাপক গোলাম আযম (রাহি.)

১) ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট

১৯৫৬–৬১ সালে পাকিস্তানের শিক্ষা কমিশনকে ঘিরে লেখকের গবেষণা ও প্রবন্ধ থেকে বইটির সূত্রপাত। বারবার আলোচনা ও পরিমার্জনের পর এটি ২০০৪ সালে প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। লেখকের অভিযোগ, নীতিমালায় নৈতিকতা ও ইসলামী চেতনা অনুপস্থিত।

সারাংশ: বইটি দীর্ঘ আলোচনার ফসল; মূল সমস্যা—ইসলামী ভিত্তির অভাব।


২) বইয়ের উদ্দেশ্য

বাংলাদেশে শিক্ষা দুই মেরুতে—মাদ্রাসা বনাম আধুনিক শিক্ষা। কোনোটিই একা যথেষ্ট নয়। বইটির উদ্দেশ্য: ইসলামী আদর্শে ভিত্তিকৃত সমন্বিত শিক্ষার রূপরেখা দেওয়া।

সারাংশ: সমন্বিত ইসলামী-আধুনিক শিক্ষা দরকার।


৩) চারটি মৌলিক প্রশ্ন

শিক্ষাব্যবস্থা সাজাতে আগে নির্ধারণ করতে হবে:

১) শিক্ষা কী?

২) মানুষ কে?

৩) জাতীয় আদর্শ কী?

৪) বিদ্যমান শিক্ষার সমস্যা কোথায়?

সারাংশ: কাঠামোর আগে দর্শন জরুরী


৪) শিক্ষা কী

শিক্ষা হলো—“পরিকল্পিত ব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে গুণাবলি ও জ্ঞান বিকাশ।” অন্য প্রাণীরা স্বভাবত শিখে, কিন্তু মানুষের জন্য কৃত্রিম/সচেতন আয়োজন দরকার।

সারাংশ: শিক্ষা = পরিকল্পিত মানবিক বিকাশ।


৫) মানুষ কে?

মানুষ দেহ–আত্মার সমন্বয়ে গঠিত নৈতিক জীব। শুধু জ্ঞান বা প্রযুক্তি নয়, নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষা ব্যর্থ। দেহ বাহন, আত্মা পরিচালক।

সারাংশ: মানুষ নৈতিক-সত্তা, দেহ–আত্মা ভারসাম্য জরুরি।


৬) দেহ–আত্মার দ্বন্দ্ব

শুধু ভোগবাদ (দেহ) বা শুধু বৈরাগ্য (আত্মা) অমানবিক। ইসলাম মধ্যপথ নির্দেশ করে—প্রবৃত্তি ও বিবেকের সমন্বয়।

সারাংশ: শিক্ষা হবে প্রবৃত্তি–বিবেকের ভারসাম্যপূর্ণ।


৭) মানুষের উপযোগী শিক্ষা

কেবল ভৌত বা কেবল আধ্যাত্মিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। নৈতিক সীমার ভেতরে আধুনিক জ্ঞান প্রয়োগ করতে শেখায় এমন শিক্ষাই সঠিক।

সারাংশ: উপযোগী শিক্ষা = নৈতিকতা + জ্ঞান।


৮) জাতীয় আদর্শ ও শিক্ষা

প্রতিটি রাষ্ট্র শিক্ষায় নিজস্ব আদর্শ প্রতিফলিত করে। আদর্শ ছাড়া শিক্ষা অর্থহীন।

সারাংশ: শিক্ষা গড়ে আদর্শের মানুষ।


৯) বাংলাদেশের জাতীয় আদর্শ—ইসলাম

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংবিধান ও জনমত অনুযায়ী জাতীয় আদর্শ ইসলাম। সেক্যুলার ধারাকে জনগণ ও আইন প্রত্যাখ্যান করেছে।

সারাংশ: জাতীয় আদর্শ ইসলাম।


১০) শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য

ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলা নাগরিক, যারা আধুনিক জ্ঞানে দক্ষ হবে।

সারাংশ: আধুনিক দক্ষতা + ইসলামী নৈতিকতা।


১১) প্রধান অন্তরায়: দ্বিমুখী শিক্ষা

মাদ্রাসায় আধুনিক জ্ঞানের ঘাটতি, আধুনিক ধারায় ইসলামী চেতনার ঘাটতি। সমাধান: মেলবন্ধন।

সারাংশ: বিভক্ত শিক্ষা একতা ভাঙে।


১২) সংস্কারচেষ্টার সীমাবদ্ধতা

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ—বিভিন্ন কমিশন ধর্মকে কেবল “বিষয়” বানিয়েছে, পূর্ণ দর্শন নয়। ফলে বাস্তবায়ন হয়নি।

সারাংশ: কমিশন রিপোর্ট আছে, পরিবর্তন হয়নি।


১৩) আধুনিক শিক্ষার গলদ

পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে জ্ঞান শেখানো হয়, পরে দীনিয়াত যোগ করলে তা বেমানান লাগে।

সারাংশ: সেক্যুলার কোর + ধর্মীয় অ্যাড-অন = দ্বিধা।


১৪) ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কী চায়?

শুধু নামাজ–রোজা নয়; অর্থনীতি, রাজনীতি, বিজ্ঞান—সবকিছুতে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত শিক্ষা।

সারাংশ: ইসলাম = পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা


১৫) ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

১) দীন–দুনিয়া মিলিত।

২) সব জ্ঞান ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে।

৩) ইসলামী পরিবেশ।

৪) উচ্চশিক্ষায় তুলনামূলক শ্রেষ্ঠতা।

৫) কুরআন–হাদিস–ফিকহে দক্ষতা।

সারাংশ: বিষয়বস্তু + পরিবেশ + উৎসে দক্ষতা।


১৬) বাস্তব রূপ (ক) দীন–দুনিয়া একীভূত

ধর্মীয়–পার্থিব আলাদা নয়। সব কাজ ইসলামী সীমায় হলে ইবাদত।

সারাংশ: শিক্ষা-জীবন একক ব্যবস্থা।


১৭) বাস্তব রূপ (খ) পরোক্ষ পদ্ধতি

শিক্ষায় সরাসরি নীতিশিক্ষা নয়; বিষয়ভিত্তিক উদাহরণে ইসলামী নীতি শেখানো। যেমন: সুদের অঙ্ককে যুলুম হিসেবে উপস্থাপন।

সারাংশ: বিষয়ভিত্তিক ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি।


১৮) বাস্তব রূপ (গ) পরিবেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামাজ, পর্দা, নৈতিকতা—এসব অনুশীলন থাকতে হবে।

সারাংশ: পরিবেশ গড়ে চরিত্র।


১৯) বাস্তব রূপ (ঘ) উচ্চশিক্ষা

উচ্চশিক্ষায় ইসলামী বনাম পাশ্চাত্য দর্শনের তুলনা—ইসলামের যুক্তিগত শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করা।

সারাংশ: উচ্চশিক্ষায় ইসলামী কোর অপরিহার্য।


২০) উৎসে দক্ষতা

কুরআন–হাদিস–ফিকহে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি।

সারাংশ: উৎসে দক্ষতা ছাড়া শিক্ষার গভীরতা আসে না।


২১) শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষকই আদর্শ। বইয়ের চেয়ে শিক্ষকের চরিত্র বড়।

সারাংশ: শিক্ষকই আসল কারিকুলাম।


২২) আধুনিক শিক্ষা-বিজ্ঞান ব্যবহার

আধুনিক টুলস (টেকনোলজি, গবেষণা) ইসলামী শিক্ষায় কাজে লাগাতে হবে।

সারাংশ: আধুনিক টুলস ইসলামী নীতিতে কাজে লাগান।


২৩) উপসংহার

পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্ভব, তবে ছোট ছোট মডেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। “ইসলামই বাঁচিয়েছে, ইসলামই বাঁচাবে”—এই আশাবাদে সমাপ্তি।

সারাংশ: ছোট মডেল থেকে জাতীয় রূপায়ণ।


পুরো বইয়ের সামারি:

সমস্যা: দ্বিমুখী শিক্ষা ও আদর্শশূন্য দৃষ্টি।

সমাধান: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে দীন–দুনিয়া একীভূত শিক্ষা, পরিবেশ-নির্ভর চরিত্রগঠন, উৎসে দক্ষতা ও আধুনিক টুলসের সৃজনশীল ব্যবহার।


সংকলনে: আরমানের খেরোখাতা

Sunday, December 8, 2024

বইনোট : ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় (ইসলামী বিপ্লবের পথ) || সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী রহ.



এটি ১৯৪০ সনের বক্তৃতা, জামায়াতে ইসলামী তখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 
[বইয়ের মুল নাম: ইসলামী হুকুমাত কিসতারাহ কায়েম হোতি হ্যাঁয়]

• ভূমিকা:
ইসলামী বিপ্লবের পথ বইটির মূল কথা হল 'ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠা হবে' এই লক্ষ্যে বইটির লেখক মরহুম মাওলানা মওদুদী (র) ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রেচী হলে এ সম্পর্কে এক অনুপম বক্তব্য পেশ করেন। বক্তব্যের শিরোনাম ছিল '
ইসলামী হুকুমাত কিসতারাহ কায়েম হোতি হ্যাঁয়' এর অর্থ হল ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

• মূল আলোচনা:
বইটির মূল আলোচনাকে ৮টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা.
১. ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়
২. রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বাভাবিক বিবর্তন
৩. আদর্শিক রাষ্ট্র
৪. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক রাষ্ট্র।
৫. ইসলামী বিপ্লবেরপদ্ধতি বা পন্থা
৬. অবাস্তব কল্পনা বা ধারনা
৭. ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা
৮. সংযোজন

 ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়:
১. বর্তমানে ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ নাম শিশুদের হাতের খেলনায় পরিণত হয়েছে।
২. যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা এটা জানেন না কিভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হয় এবং জানার চেষ্টাও করেন না।
৩. যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা যে প্রস্তাব দেয় মোটর সাইকেলে যেমন আমেরিকায় পৌঁছানো সম্ভব নয় তেমনি তাদের প্রস্তাবে মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

• রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বাভাবিক বিবর্তন:
“কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক উপায়ে কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
১. একজায়গা থেকে তৈরি করে এনে অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
২. কোন একটি সমাজের মধ্যকার নৈতিক চরিত্র, চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা, সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যগত কার্যকারণের সমন্বিত কর্মপ্রক্রিয়ার ফলশ্রতিতে।
৩. সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নিয়মে জন্মলাভ করে ইসলামী রাষ্ট্র।
৪. সামাজিক উদ্যম, উদ্দীপনা, ঝোঁক-প্রবণতা প্রভৃতি নিবিড় সম্পর্ক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত।
৫. প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন।
৬. সামাজিক কার্যক্রম ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
৭. দীর্ঘ প্রানান্তকর চেষ্টা (যেমন বীজ হতে ফল)।

• আদর্শিক রাষ্ট্র:
১. ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য

(i) ইসলামী রাষ্ট্র একটি আদর্শিক রাষ্ট্র।
(ii) সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের প্রভাবমুক্ত।

২. ফরাসী বিপ্লবের আদর্শিক রাষ্ট্রের ক্ষীণ রশ্মি দেখা গেলেও জাতীয়তাবাদের প্রভাবে চাপা পড়ে তা বিলুপ্ত হয়। 
(i) রাশিয়ার কম্যুনিজম ও সমাজতন্ত্রের মৌলিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও অতিসত্ত্বর তা আদর্শচ্যুত হয়। 
(ii) মুসলিম দেশের কতৃত্বশীল লোকেরা জাতীয়তাবাদের আখড়ায় পড়ে ইসলামী ভাবধারা ও আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা হারিয়ে ফেলেছে। 

৩. আদর্শ রাষ্ট্র বাস্তবায়নের প্রয়োজন:
ক) ভিত্তি স্থাপন হতে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্তপ্রায় অস্তিত্ব রক্ষা করা। উত্তরোত্তর শক্তি বৃদ্ধি করা।
খ) জাতীয়তাবাদী চিন্তা-পদ্ধতি সংগঠন প্রণালী পরিহার করা।

৪. আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের লক্ষ্যে:
ক) জাতি-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের কাছে এর আদর্শ পেশ করা। 
খ) সেই আদর্শ অনুযায়ী সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠন করে কল্যাণ সাধন।

• আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক রাষ্ট্র:
(ক) ইহার বৈশিষ্ট্যঃ
১. ইসলামী রাষ্ট্রের মূল বুনিয়াদ
২. নিখিল বিশ্ব জগৎ আল্লাহতাআলার রাজ্য। তিনি ইহার প্রভূ, শাসক ও বিধানদাতা।
৩. মানুষ এই দুনিয়ায় আল্লাহরপ্রতিনিধি।
৪. খেলাফতের এই দায়িত্বের জন্য প্রত্যেককেই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

(খ) ইসলামী রাষ্ট্রের স্বরূপঃ
১. এটা ধর্মহীন রাষ্ট্র হতে সম্পূর্ণ আলাদা।
২. এটা পরিচালনার জন্য এক বিশেষ মনোবৃত্তি বিশেষ প্রকৃতি এবং বিশেষ ধরনের নির্ধারন আবশ্যক।
৩. ধর্মহীন রাষ্ট্রের জজ ও প্রধান বিচার প্রতি ইসলামী রাষ্ট্রের কেরানী হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
৪. ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগের জন্য খোদাভীতি, নিজ কর্তব্য পালন ও সেজন্য আল্লাহরকাছে জবাব দিহির তীব্র অনুভূতি ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী লোকের প্রয়োজন।

(গ) ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা কারীদের বৈশিষ্ট্যঃ
• পৃথিবীর বিপুল পরিমান সম্পত্তি হস্তগত থাকলেও তারা তার পূর্ন আমানতদার।
• রাজশক্তি করায়ত্ত হলেও সুখ নিদ্রা ত্যাগ করে জনস্বার্থে রক্ষণাবেক্ষণ।
• যুদ্ধে বিজয়ী দেশে হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত না হয়ে তাদের ইজ্জত আব্রর হেফাজতকারী।
• নিজেদের স্বার্থকে ধুলিস্যাৎ করে অপরের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া।
• আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তারা এমন মর্যাদার অধিকারী হবে যে, তাদের সততা, সত্যবাদীতা, ন্যায়পরয়নতা, নৈতিক ও চারিত্রিক, মূল নীতির অনুসরণ এবং প্রতিশ্রুতিও চুক্তি পালনের ব্যাপারে গোটা বিশ্ব তাদের উপর আস্থাশীল হবে।

• ইসলামী বিপ্লবের পদ্ধতি বা পন্থা:
১. ইসলামী রাষ্ট্রের অলৌকিক আবির্ভাব ঘটনা
• ইসলামী জীবন দর্শন চরিত্র ও প্রকৃতির বিশেষ মাপকাঠি অনুযায়ী গঠিত ব্যাপক আন্দোলন সৃষ্টি করা। নেতা ও কর্মীদের এই বিশিষ্ট আদর্শে আত্মগঠন করা।
• সমাজ জীবনে অনুরূপ মনোবৃত্ত ও নৈতিক উদ্দীপনা জাগ্রত করা।
• ইসলামী আদর্শে নাগরিকদের গড়ে তুলতে একটি অভিনব শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা।
• জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখায় ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে চিন্তা ও কাজ করতে সক্ষম এমন লোক গড়ে তোলা।
• ইসলামী আদর্শের চিন্তা-চেতনা ও কর্ম জীবনের একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়ন।
• ইসলামী আন্দোলন চতুপার্শ্বে যাবতীয় অবাঞ্চিত জীবন-ধারার বিরূদ্ধে প্রকাশ্যে সংগ্রাম করবে।

২. ইহাতে নিম্নোক্ত ফল পাওয়া যাবে:
• পরীক্ষার অগ্নিদহনে উত্তীর্ণ ত্যাগী লোক তৈরি হবে।
• এ আন্দোলনে এমনসব লোক পর্যায়ক্রমে যোগদান করবে যাদের প্রকৃতিতে সত্য-ন্যায়ের উপাদান অন্তর্নিহিত রয়েছে।
• সর্বশেষে কাঙ্খিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

৩. যে কোন ধরনের বিপ্লব সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজন:
• একটি বিশেষ ধরনের আন্দোলন।
• বিশেষ ধরনের সামাজিক চেতনা সম্পন্ন নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃাষ্ট। উদাহরণ, রুশ বিপব, জার্মানির সমাজতন্ত্রের বিপব।

• অবাস্তবকল্পনা বা ধারনা:
১. কিছু লোকের ধারণা মুসলিম জাতিকে একটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে একই পাটফর্মে সংগঠিত ও পরিচালিত করতে পারলেই ইসলামী রাষ্ট্র আপনা আপনিই প্রতিষ্ঠিত হবে। 
২. মুসলমানদের বর্তমান নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার স্বরূপ যেমন- চরিত্রগত দিক থেকে দুনিয়ার মুসলিম ও অমুসলিম জাতিগুলোর সবগুলোর অবস্থা প্রায় একই। উদাহরণঃ আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে দুর্নীতি, রোজার দিনে একই সাথে খাওয়া, সুদ, ঘুষ, জেনা ইত্যাদির সাথে লিপ্ত হওয়া।

• ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা:
হযরত মুহাম্মদ (সা) এর কর্মপন্থাই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা। তার অনুসৃত বিশিষ্ট কর্মপন্থাগুলো নিম্নরূপ:

১. ইসলাম হলো সেই আন্দোলনের নাম যা মানব জীবনের গোটা ইমারত নির্মান করতে চায় এক আলাহর সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিভঙ্গির উপর।
২. ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য কোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়।
৩. মূল লক্ষ্য আলাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের দাওয়াত দেওয়া।

• ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মনীতির চারটি দিক রয়েছেঃ
ক) আলাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার আহবান।
খ) অগ্নী পরীক্ষায় নিখাঁদ প্রমানিত হওয়া।
গ) নেতা ছিলেন আদর্শের মডেল।
ঘ) আদর্শের কার্যকর স্বাভাবিক বিপব।

ক) আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার আহবান:
১. বুদ্ধিমান ও বাস্তববাদী হয়ে থাকা তবে বুদ্ধিমত্তা ও বাস্তববাদীতার দাবী হলো সেই মহান সম্রাটের হুকুমের সম্মুখে মাথা নত করে দাও তার একান্ত আনুগত্য দাস হয়ে যাও।
২. গোটা জাতির একজনই সম্রাট মালিক এবং সার্বভৌম কর্তা রয়েছেন। অন্য কারো কতৃত্ব করার কোন অধিকার নাই।
৩. আলাহ ছাড়া আমি সকলের বিরূদ্ধে বিদ্রোহী এবং যারা আলাহকে মানে তারা ব্যতিত] ৪. এই ঘোষণা উচ্চারণ করার সাথে সাথে বিশ্ববাসী আপনার শত্রুহবে এবং চতুর্দিক থেকে সাপ, বিচ্ছু আর হিংস্র পশুরা আপনাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করছে।

খ) অগ্নি পরীক্ষায় নিখাঁদ প্রমাণিত হওয়াঃ
১. লা ইলাহা ইলালাহ এই ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে পোপ (খৃস্টান) ঠাঁকুরদের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হলো এগুলো গঠন করে হলো ঐক্যজোট।
২. তাদের উপর নেমে আসে কঠিন অত্যাচার এবং এর ফলেই ইসলামী আন্দোলন মজবুত হয় এবং ক্রমবিকাশ ও প্রসার লাভ করে।
৩. এর ফলেই সমাজের মনি-মুক্তাগুলো আন্দোলনে শরিক হয়।
৪. একদিকে এই বিপ্লবী কাফেলায় যারা শরিক হচ্ছিল বাস্তবে ময়দানে তাদের হতে থাকে যথার্থ প্রশিক্ষণ।
৫. কিছু লোক দিনের পর দিন মার খাচ্ছে এ দেখে কিছু মানুষ উৎসাহী হয় এরা কি কারণে মার খাচ্ছে।

গ) নেতা ছিলেন আদর্শের মডেলঃ
১. বর্তমান ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের সেই মহান নেতার নেতৃত্ব আদর্শ, সহানুভূতি এবং সার্বিকভাবে তার মডেলকে অনুসরণ করা একান্ত দরকার।
২. এই নেতার স্ত্রী ছিলেন বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক।
৩. কালিমার দাওয়াত কবুল ও মানুষকে এ দাওয়াত দেওয়ার সাথে সাথে তাদের সম্পদ শেষ হয়ে যায়।
৪. নেতা ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল।
৫. সমকালীন সময়ে তাকে ইসলামী আন্দোলনের কাজ না করার প্রতিফল হিসাবে আরব জাহানের বাদশাহী এবং আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নারী দিতে চেয়ে ছিল। কিন্তু তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন এবং তিরস্কার আর প্রস্তাব্যগত সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেন।
৬. অত্যন্ত গরমের সময় মরুভূমির মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে দ্বীনের দাওয়াত দিতেন সাথীদের সাথে নিয়ে।
৭. হাশেমী গোত্রের লোকেরা এই আন্দোলনের প্রতি অনীহা ছিল।

ঘ) আদর্শের কার্যকর স্বাভাবিক বিপ্লব:
ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একদল লোককে সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছিল যারা ইসলামের পূর্ণ প্রশিক্ষণ পেয়ে এতটা যোগ্য হয়েছিল যে তারা যেকোন অবস্থা ও পরিস্থিতিতে মুসলমান হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম ছিল। উদাহরণ, মদীনায় একটি ইসলামী রাষ্ট্র।

একথা সত্য যে, একাজের জন্য প্রযোজন ঈমান, ইসলামীক চেতনা, ঐকান্তিক নিষ্ঠা, মজবুত ইচ্ছাশক্তি এবং ব্যক্তিগত আবেগ, উচ্ছাস ও স্বার্থের নিঃশর্ত কুরবাণী। 

 

একাজের জন্য এমন একদল দুঃসাহসী যুবকের প্রয়োজন যারা সত্যের প্রতি ঈমান এনে তার উপর পাহাড়ের মত অটল হয়ে থাকবে। অন্যকোন দিকে তাদের দৃষ্টি নিবন্ধ হবে না। পৃথিবীতে যা-ই ঘটুকনা কেন, তারা নিজেদের লক্ষ্য- উদ্দেশ্যের পথ থেকে এক ইঞ্চিও বিচ্যুত হবে না।

Wednesday, September 25, 2024

আলোচনা নোট || ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মান

আলোচনা নোট || ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্খিত মান

মহান আল্লাহ তা'য়ালা মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টির স্রষ্টা এবং প্রতিপালক। প্রত্যেক সৃষ্টিই তার হুকুম অনবরত পালন করছে এবং জিকির করছে। সকল সৃষ্টিই নির্দিষ্ট একটি নিয়মে চলছে। শুধুমাত্র মানুষই ব্যতিক্রম সৃষ্টি। যাকে সৃষ্টি করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

এই মানুষই একমাত্র সৃষ্টি যার কিনা স্রষ্টার হুকুম অমান্য করার সামর্থ রয়েছে। আর আল্লাহতায়ালা সেটাই দেখবেন যে, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে যে ভয় করে এবং যে করেনা। সেটা বিচার করার জন্যই দুনিয়ার সৃষ্টি। যাহোক, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ আল্লাহরহুকুম এবং রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ অনুসরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মহান প্রভুর হুকুম অমান্য করছে এবং মহান আদর্শ প্রিয় রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ এড়িয়ে চলছে। নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী বিধি বিধান অনুসরণ এবং অন্যদের নিকট তা পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রানপণ চেষ্টা করা এবং সমাজে ও রাষ্ট্রে ইসলাম কায়েমের চেষ্টা করার নাম ইসলামী আন্দোলন।

এই ইসলামী আন্দোলন যারা করবেন তথা এই আন্দোলনের যারা কর্মী হবেন তাদের অপরিহার্য কিছু গুণাবলী অর্জন করতে হবে এবং ব্যক্তি জীবন ও সামাজিক জীবনে আমল করতে হবে। তবেই নিজে ভাল মুসলমান হতে পারবে এবং চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে সমাজের অপরাপর মানুষদেরকে আল্লাহরদ্বীনের দিকে ডাকতে পারবে।


•ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্খিত মান:

১. ব্যক্তিগত গুণাগুণ অর্জন এবং পালন,

২. সহীহ ঈমান

৩. ইসলামের যথার্থ জ্ঞান অর্জন

৪. সমসাময়িক জ্ঞান অর্জন

৫. ঈষর্ণীয় চরিত্র

৬. মার্জিত ব্যবহার

৭. ধৈর্য্য

৮. সর্বক্ষেত্রে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন


•সাংগঠনিক গুণাবলী অর্জন ও পালন

১. সঠিক নেতৃত্ব

২. যথাযথ আনুগত্য 

৩. সার্বিক শৃংখলা সংরক্ষণ

৪. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সংরক্ষণ (সম্পর্ক ও আচরণ)

৫ . পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা (ভ্রাতৃত্ববোধ)

৬. পরামর্শ ভিত্তিক কাজ করা

৭. অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া


•সামাজিক গুণাগুণ অর্জন ও পালন:

১. সমাজের আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে তৈরী করা

২. সমাজের যে কোন ঘটনায় মতামত প্রকাশ

৩. সামাজিক সমস্যার সমাধানে অংশগ্রহণ

৪. মানুষের দুঃখ ও দুর্দশায় পাশে দাড়ানো ও মানুষের

আনন্দে সাধুবাদ জানানো

৫. ব্যক্তির বয়স, পেশা, মর্যাদা হিসেবে ব্যবহার 

৬. ভালোকাজে উৎসাহ দান, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা 

৭. নিজ উদ্যোগে গঠনমূলক কাজের উদ্যোগ গ্রহণ


•পারিবারিক গুণাগুণ অর্জন ও পালন:

১. পিতামাতার বাধ্য থাকা

২. বড় ছোট ভাই বোনদেরকে হক অনুযায়ী ব্যবহার

৩. পরিবারে ইসলামী নীতি অনুসরণ করানোর জন্য চেষ্টা করা 

৪. পরিকল্পিতভাবে সবার কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানো

৫. আত্মীয় স্বজনের সাথে পর্দা সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া

৬. পরিবারের অর্থনৈতিক লেনদেনে ন্যায়ের ব্যাপারে আপোষহীন থাকা

৭. আত্মীয় স্বজনের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকা

উপরোল্লেখিত গুণাগুণ সমূহের মধ্যে অনেক কার্যাবলী ও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের কোন কর্মী এসব গুণাগুণ অর্জন করলে তার অবস্থান যেখানে হোক সেখানেই যে নিজেকে প্রস্ফুটিত ফুলের ন্যায় সৌরভ ছড়াতে সক্ষম হবে। আর যখন এমন কর্মী তৈরী বেশি হবে তখনই আমরা সমাজ পরিবর্তনের আশা করতে পারি।

উপরোল্লেখিত গুণের সমাবেশ ঘটানো খুব কঠিন কাজ নয়। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আরম্ভ করলে এই সব গুণাগুণ ব্যক্তির মধ্যে তৈরী হবে।

সেগুলো হল-

১. কুরআন হাদীস সরাসরি অধ্যয়ন

২. বেশি বেশি ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন

৩. নবী জীন্দেগী ও সাহাবা জীন্দেগী, ইসলামী মনিষীদের জীবনী, বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের জীবনী অধ্যয়ন

৪. সত্য ও ন্যায়ের ব্যাপারে আপোষহীন থাকা

৫. সাংগঠনিক মান উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা

৬. ক্ষমা করার প্রবণতা

৭. আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়

৮. বেশি বেশি নফল ইবাদত (নামাজ, রোজা, জিকির)

উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আমল করতে পারলে ব্যক্তি একজন খাঁটি মুসলিম এবং ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ কর্মী হতে পারবেন। আর এই কর্মীদের সমন্বয়েই গঠিত হবে কাঙ্ক্ষিত ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে শ্রেষ্ঠ মানের কর্মী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

Tuesday, July 9, 2024

আলোচনা নোট || বাদ দিন বাজে অভ্যাস

মানুষ অভ্যাসের দাস, তবে সেই অভ্যাস যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়-তাহলে কিন্তু সমস্যায় পড়তে হবে। অনেক সময় লজ্জা- অপমানও হজম করতে হবে। তারপরও বাজে অভ্যাস ছাড়ে না। আমরা নিজেদের বাজে বা বদ অভ্যাস গুলো পরিবর্তন করতে চাই। তাই কিছু অভ্যাস ও সেগুলোর হাত থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আমাদের আজকের মূল উপস্থাপনা। 


১. কথা লাগানো:- বিশ্বস্ততা জীবনে খুব জরুরি। কেউ হয়তো আপনাকে বিশ্বাস করে কোনো কথা বলেছে। আপনি সেই কথা অন্যকে বলে দেন তাহলে সেটাও বাজে অভ্যাস।
সমাধান :- যখন আপনাকে বিশ্বাস করেছে বলেছে মনে রাখবেন তা রক্ষা করার দায়িত্বও আপনার। যদি মনে করেন আপনি বলে দিতে পারেন, তাহলে এ ধরনের কথা শোনা থেকে বিরত থাকুন।

২. বেশি কথাঃ- বাচালতা নিজের ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত কথা আপনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেবে। 
সমাধান:- কথা দীর্ঘ করলে আসল কথাই হারিয়ে যতে পারে। যদি মনে করেন আপনি বেশী কথা বলছেন তাহলে বলার সময় সচেতন থাকুন। আপনজনদের জিজ্ঞাসা করুন কথা বলার সময় খেয়াল করতে আপনি বেশি বলছেন কিনা। তাহলে থামিয়ে দিতে কিংবা বিরক্তি প্রকাশ করতে। অনর্থক কথা না বলে সার কথাটুকু বলুন। দেখবেন যা বলছেন সবাই তা মনযোগ দিয়ে শুনছে। চেষ্টা করুন যা ঘটেছে বা যা সত্য তাই বলতে। 

. আঘাত দিয়ে কথা:- আপনি স্পষ্টবাদি, এর অর্থ এই নয় যে অন্যকে আঘাত দিয়ে কথা বলবেন। কেউ আপনার মত নাও হতে পারে।
সমাধান:- মনে রাখবেন অন্যকে আঘাত দেওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। অনেক কঠিন কথাও অনেক সুন্দর করে বলা সম্ভব- এ অভ্যাস রপ্ত করুন। কথা বলার সময় সচেতন থাকুন যেন আপনার কথায় কেউ কষ্ট না পায়।

৪. অন্যকে বলতে না দেওয়া:- এক তরফা অনেকেই কথা বলতে থাকেন। অথচ আলোচনা বা আড্ডার সময় অন্যের কথাও শুনতে হয়, বলার সুযোগ দিতে হয় এ খেয়াল থাকেনা। 
সমাধান :- আলোচনা বা আড্ডায় ভালো শ্রোতার কদর অনেক। আগে অন্যের কথা শুনে তারপর বলুন। খেয়াল রাখুন অন্যরা বলার সুযোগ পাচ্ছে কিনা। নিজে কম কথা বলে অন্যকে বলতে দিন।

৫. কথা না রাখা: অনেকেই আছেন কথা দেওয়ার সময় হয়তো না বুঝেই কথা দিয়ে ফেলেন। পরবর্তিতে রক্ষা করতে পারেন না। তেমনি সবসময় দেরি করে পৌঁছানোও বাজে অভ্যাস। দেরি করে আসার কারণে অনেকেই হয়তো বিরক্ত হন এবং বিড়ম্বনায় পড়েন।
সমাধান :- খেয়ালের বশে কখনো কাউকে কথা দিবেন না। কথা দেওয়ার সময় সচেতন থাকুন আপনি রক্ষা করতে পারবেন তো? কথা দেওয়ার পর যদি বুঝতে পারেন আপনি রাখতে পারবে না তবে আগে ভাগেই জানিয়ে দিন। যাতে আপনার জন্য কারো অসুবিধা না হয়। সময়ানুবর্তিতা জীবনের জন্য জরুরি। সব সময় হাতে সময় নিয়ে বের হবেন। যাতে নির্দিষ্ট সময় পৌছাতে পারেন। 

৬. ঈর্ষা:- ঈর্ষা জীবনকে পিছিয়ে দেয়। অপরের ভালো বা সুখ দেখে হিংসা না করে বরং নিজে সেই গুণগুলো অর্জনের চেষ্টা করুন।

সমাধান:- নিজের যা কিছু আছে তা নিয়ে সুখী হওয়ার চেষ্ট করা উচিত। বরং ঈর্ষা না করে অন্যের ভালো কিছু অনুসরন করে সে রকম হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজে নিজে অনুধাবন করার চেষ্ট করুন আপনি ঈর্ষা করছেন এত আপনার কোনো লাভ হচ্ছে কি?

৭. সন্দেহ: সন্দেহ নিঃসন্দেহে খারাপ অভ্যাস। সম্পর্কে ফাটল ধরায়। সন্দেহপ্রবণ মানুষ নিজেকে নিয়েও নিজের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত থাকে। তার এ অভ্যাসে অন্যরাও বিরক্ত হয়।
সমাধান:- কাউকে সন্দেহ না করে বরং ওই ব্যক্তিকেই সরাসরি জিজ্ঞেস করুন। আসল সত্যটা জানার চেষ্টা করুন। সন্দেহ থেকে দুরে থাকার সবচেয়ে ভালো পন্থা নিজের বিষয়ে সচেতন ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া। আপনি এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন না- এমন আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন। আপনাকে কেউ সন্দেহ করলে চুপ থাকুন। আসল সত্য এমনিতেই বেরিয়ে আসবে। 

. পরনিন্দাঃ- কারণে-অকারণে অপরের দোষ-ত্রুটি সবাইকে বলে বেড়ানো বাজে অভ্যাস। অনেক সময় অপরে যা করেনি তাও বানিয়ে বানিয়ে বলতে দেখা যায় কাউকে কাউকে। 
সমাধান :- অপরের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন। প্রচার করবেন না। মনে রাখবেন, আপনারও ভুল হতে পারে। পরনিন্দা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরায়। এরকম বাজে অভ্যাস হলে নিজে নিজে সচেতন হয়ে কাটিয়ে উঠুন।

৯. অন্যের দোষ খোঁজা: অযথা কারো দোষ ধরবেন না। কেউ কোনো ভুল করলে অন্যায় করলে নিজেই সংশোধন করে দিন। কারো কথা বার্তা, চালচলন পছন্দ না হলে চুপ থাকুন, তবে সেটা যদি আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হয়। 

সমাধান:- অন্যের দোষ না খুজে তার ভাল দিক খুজে বের করার মধ্যেই আনন্দ। দোষ যদি বলতেই হয় সবার সামনে না বলে আড়ালে শুধরে দিন। 

১০. পক্ষপাতিত্বঃ- আপনার বন্ধু বা আপন জন অন্যায় করলে, খারাপ ব্যবহার করলে তাকে ছেড়ে দিবেন না। নিরপেক্ষ বিচার করুন। অন্যায় করলে ক্ষমা চাইতে বলুন। পক্ষপাতহীন আচরণ ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করবে।
সমাধান:- পক্ষপাত দুষ্ট মানুষকে কেউ পছন্দ করেন না। পক্ষপাত আচরনে অন্যের ক্ষতি হতে পারে। কোন কিছু করার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখুন সবার প্রতি আচরণ ঠিক আছে কি না। নিজে বুঝতে না পারলে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা করে নিতে পারেন।

১১. মোবাইল ফোন:- অনেকেই অহেতুক জোরে জোরে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। অন্যের বিরক্তির বিষয়ে খেয়াল করেন না। কোনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যেও কথা বলতে থাকেন। অনেকের মোবাইল ফোনের রিংটোনও অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সমাধান:- মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় খেয়াল রাখুন আপনার কথায় অন্যের অসুবিধা হচ্ছে কিনা। জরুরি হলে অন্য জায়গায় গিয়ে কথা বলুন। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় ফোন সাইলেন্ট রাখুন। কাছের মানুষদের জানিয়ে রাখুন এ সময় আপনি ব্যস্ত থাকেন জরুরি না হলে ফোন না করতে। ফোনের রিংটোন আপনার রুচির প্রকাশ করে। তাই সচেতন থাকুন।

১২. আরও যত বাজে অভ্যাস:-
• আঙ্গুল মটকানো
• দাঁত খোচানো
• যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলা।
• নাক-মুখে রুমাল বা হাত না দিয়ে হাচিকাশি
• মেঝেতে পা ঘষে হাঁটা
• দাঁত দিয়ে নখ কাটা
• বেতন ও বয়স কত জিজ্ঞেস করা
কিভাবে ত্যাগ করবেন :- অভ্যাসতো আপনিই সৃষ্টি করেছেন। আপনারতো ভালো অভ্যাসও আছে। সুতরাং অভ্যাসের পরিবর্তন করার দায়িত্বটাও একান্তই আপনার। তার জন্য প্রয়োজন শুধু নিজের সচেতনতা আর সদিচ্ছা। বাজে অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন থাকুন। কাছের জনকেও বলুন শুধরে দিতে। আপনার আশপাশে এমন মানুষ আছে যাদের মধ্যে আপনার বাজে অভ্যাসগুলো নেই। তাদের অনুসরণ করতে পারেন। প্রয়োজনে মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

১৩. দোষনীয় বিষয়:-

•আতরের দাগ
•মুখের গন্ধ 
•টাই বাধা
•কাপড়ে/শরীরে ঘামের গন্ধ
•জুতা কালি করতে সময় না থাকা 
•খাবারগ্রহণ কালীন শব্দ/চা পানের শব্দ
•পানি পরিবেশনের সময় গ্লাস ধুয়ে গ্লাসের গায়ের পানি না মুছে পানি দেয়া
•মোজা/গেঞ্জি গন্ধ হবার পরও তা ব্যবহার করা/স্প্রে ব্যবহার


নোট: সংকলিত 

Monday, March 11, 2024

একুশ শতকের এজেন্ডা || আবুল আসাদ



একুশ শতকের এজেন্ডা
আবুল আসাদ

অস্তায়মান বিশ শতকের উপসংহার থেকেই গড়ে উঠবে একুশ শতকের যাত্রাপথ। তাই এই উপসংহারের স্বরূপ সন্ধান খুবই জরুরী। আমেরিকান এক লেখক তার এক শতাব্দী-সিরিজ গ্রন্থে শতাব্দীর 'Mega Trend' গুলোকে তার মত করে চিহ্নিত করেছেন। এই 'Mega Trend' গুলোর মধ্য রয়েছেঃ

১. বিশ্ব অর্থনীতি
২. বিশ্ব রাজনীতি
৩. বিশ্ব সংস্কৃতি

এই 'Mega Trend' গুলো বিশ শতাব্দীর অনন্য কারিগরি, বৈষয়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এবং এই উন্নয়নের স্রোতে বহমান জাতিসংঘের অনন্য ভূমিকার দ্বারা প্রতিপালিত ও পরিচালিত হয়ে আগামী শতাব্দীর সিংহদ্বারে এক বিশেষ রূপ নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই রূপের নির্ণয়ই একবিংশ শতাব্দীর প্রকৃতিকে পরিষ্কার করে দিতে পারে।

প্রথমে বিশ্ব অর্থনীতির শতাব্দী শেষের গতি-প্রকৃতির প্রশ্ন আসে। আশির দশকের শুরুপর্যন্তবিশ্ব দুই অর্থনীতি- পুঁজিবাদ ও কম্যুনিজমের সংঘাতে সংক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু তারপর মুক্তবাজার অর্থনীতির অপ্রতিরোধ্য গ্রাসে সমাজবাদী অর্থনীতির পতন শুরুহলো। আশির দশকের সমাপ্তিতে এসে তা সমাপ্তও হয়ে গেল। আজ মুক্তবাজার অর্থনীতির গ্রাসে গোটা পৃথিবী। মুক্ত বাজার অর্থনীতির মূল কথা হলোঃ শক্তিমান অর্থনীতি বিজয় লাভ করবে, পরাজিত হবে দুর্বল অর্থনীতি। এই পরাজয়ের ভয় দুর্বল অর্থনীতিকে সবল করে তুলবে এবং সেও উন্নীত হবে বিজয়ীর আসনে। তাই সবাইকে মুক্ত বাজার অর্থনীতির স্রোতে নির্ভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এই তত্ত্ব কথায় উলিখিত 'আইডিয়াল সিশুয়েশন' হয়তো কোনদিন আসবে কিংবা আসবেই না। তবে তার আগেই শক্তিমান অর্থনীতির করাল গ্রাসে আত্মরক্ষার অধিকারহীন দুর্বল অর্থনীতি পরাধীন হয়ে মরার মত বেঁচে থাকার পর্যায়ে চলে যাবে। যেমন আমাদের বাংলাদেশ মুক্ত বাজার অর্থনীতি গলাধঃকরণ করে ইতোমধ্যেই বিদেশী পণ্য বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের বাজারে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় বাজার না পাবার আশংকায় বিদেশী বিনিয়োগ এখানে আসবেনা বরং তা যাবে বাজার দখলকারী দেশের পুজিপতিদের কাছে। যাওয়া শুরুহয়েছে। যে বিদেশী বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল তা গিয়ে বিনিয়োগ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এর অন্যথা না ঘটলে অব্যাহত এই প্রবনতা বাংলাদেশকে শিল্প পণ্যের ক্রেতা এবং কৃষিপণ্যের বিক্রেতায় রূপান্তরিত করবে।

বলা হচ্ছে, এই বিনাশ হতে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন' (W.T.O)। কিন্তু জাতিসংঘের মত এই সংস্থাও শক্তিমানদের দ্বারা পরিচালিত এবং শক্তিমান অর্থনীতিরই স্বার্থ পুরা করবে। শুধু তাই নয়, এই সংস্থা মুক্তবাজার বাণিজ্যের বিশ্বনিয়ন্ত্রক হিসেবে আত্মরক্ষায় উদ্বুদ্ধ দুর্বল অর্থনীতির বেয়াড়াপনাকে শায়েস্তা করার জন্য বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করতে পারবে হয়তো 'মহান' মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল্যবান স্বার্থেই।

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই বিশ্বরূপ বিশ্বে একক অর্থনীতি গড়ার লক্ষেই। যার নিয়ন্ত্রনে থাকবে আজকের শক্তিমান অর্থনীতিগুলো, আর শোষিত হবে অনুন্নত ও উন্নয়নমুখী অর্থনীতির দেশসমূহ। আজকের বিশ্ব অর্থনীতির শতাব্দী শেষের এটাই প্রবণতা।
এই প্রবণতা তার লক্ষে পৌঁছতে পারলে, একক এক বিশ্ব অর্থনীতি গড়া এবং তাকে এককেন্দ্রীক নিয়ন্ত্রনে আনার প্রয়াস সফল হলে বিশ্বের মানুষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে তার অশুভ প্রভাব নেমে আসবে।


অনুন্নত ও উন্নয়নমুখী মুসলিম অর্থনীতিগুলোর জন্য এটা একবিংশ শতাব্দীর প্রথম চ্যালেঞ্জ।
বিশ শতকের দ্বিতীয় 'Mega Trend' হিসেবে আসে বিশ্ব রাজনীতির কথা।

ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেনগুরিয়ান একটা বিশ্ব রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যার নেতৃত্ব দেবে ইহুদিরা এবং যার রাজধানী হবে জেরুজালেম। তার স্বপ্নের ভবিষ্যৎ আমি জানি না, তবে এক বিশ্ব অর্থনীতির মতই এক বিশ্ব রাষ্ট্র গড়ার ধীর ও ছদ্মবেশী প্রয়াস চলছে। এই প্রয়াসে ছাতা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে জাতিসংঘ এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র জয় করেছে যেমন কম্যুনিষ্ট সাম্রাজ্য, তেমনি জয় করবে গোটা বিশ্ব। বিশেষ সংজ্ঞায়িত এ গণতন্ত্রের আদর্শের কাছে জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় অধিকারকে বলি দিতে বলা হচ্ছে। বলি না দিলে শক্তি প্রয়াগেরও ব্যবস্থা রয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্যই হাইতিতে আন্তর্জাতিক বাহিনী নামানো হয়েছে জাতিসংঘের নেতৃত্বে। এমন হাইতি ভবিষ্যতে আরও অনেক হতে পারে।

গণতন্ত্র কিন্তু সমস্যা নয়, সমস্যা হলো গণতন্ত্রের অর্থ ও রক্তস্রোতের উপর তাদের বর্তমান যে রাষ্ট্রসংহতি গড়ে তুলেছে, সে রক্তস্রোত প্রবাহিত না হলে এবং সে সময় গণতন্ত্রের নীতি অনুসৃত হলে তাদের এই রাষ্ট্রসংহতি গড়ে উঠতো না। এমনকি রেড ইন্ডিয়ানদেরও একাধিক রাষ্ট্র সৃষ্টি হতো। এই ইতিহাস তারা ভুলে গেছে। যেমন আমাদের প্রতি এখন তাদের নসীহত, বিদ্রোহী শান্তিবাহিনীর গায়ে আমাদের হাত দেয়া যাবে না। তথাকথিত আদিবাসি বলে তাদের মাটিতে আমাদের পা দেয়া যাবেনা। দেশের ভিতর কোন গ্রুপবা কোন ব্যক্তি যদি বিদেশী টাকার পুতুল সেজে ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে গলা টিপে মারতে চায়, তাহলেও গণতন্ত্রের আদর্শের স্বার্থে তাদের জামাই আদর দিয়ে যেতে হবে।

গণতন্ত্রের দায়িত্বহীন এই আদর্শ অনুন্নত ও উন্নয়নমুখী এবং সমস্যা পীড়িত দেশ ও জাতিকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ক্ষত-বিক্ষত এমনকি খন্ড- বিখন্ড করতে পারে। অন্তত আর কিছু না হোক বহু মত ও পথে বিভক্ত এবং দুর্বলতো করবেই। এ ধরনের দেশ ও জাতিকে তাদের স্বকীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে অনায়াসেই সরিয়ে আনা যায় এবং তাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির উপর বিদেশী নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে এনজিও প্রভাব। এরা নামে 'নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন' হলেও এদের সরকারি ভূমিকা ক্রমবর্ধমান হয়ে উঠেছে। এখনি এরা সরকারি বাজেটের একটা অংশ পাচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে এরা সরকারের গোটা সার্ভিস ও উন্নয়ন সেক্টর পরিচালনার অধিকার পেয়ে যাচ্ছে। তখন আইন শৃংখলা ও দেশ রক্ষা ছাড়া সরকারের হাতে আর কিছুই থাকবে না। জাতিসংঘের অনুসৃত নীতি রাষ্ট্রসমূহের দেশ রক্ষা ব্যবস্থাকে সংকুচিত অথবা বিলোপ করে দিতে পারে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার কাজ অনেক আগেই শুরুকরেছে এবং শান্তিপ্রতিষ্ঠার কাজেও হাত দিয়েছে। অতএব জাতিসংঘ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়ে সংগত কারণেই রাষ্ট্রসমূহকে দেশ রক্ষা বাহিনী খাতে খরচ বন্ধ করতে বলতে পারে। সুতরাং সরকারের কাজ তখন হয়ে দাঁড়াবে শুধু শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা এবং সরকারের এই কাজও নিয়ন্ত্রিত হবে এনজিওদের দ্বারা। কারণ এনজিওরা গোটা সার্ভিস ও উন্নয়ন সেক্টরের মালিক হওয়ার ফলে দেশের রাজনীতি তারাই নিয়ন্ত্রন করবে। আর এনজিওরা, সবাই জানেন, আর্থিক ও আদর্শগত দিক থেকে মূলত জাতিসংঘ অথবা জাতিসংঘের পরিচালক শক্তিসমুহের আজ্ঞাবহ। এ অবস্থায় রাষ্ট্রসমুহ কার্যতই জাতিসংঘ নামের এককেন্দ্রীক এক শক্তির অধীনে চলে যাবে। রাষ্ট্রের অন্যতম নিয়ামক হলো জাতীয়তাবোধ। এই জাতীয়তাবোধ বিলোপ অথবা দুর্বল করারও একটা প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী চলছে। জাতিসংঘ তার উন্নয়ন, সেবা ও শান্তিপ্রতিষ্ঠামুলক এজেন্সী সমুহের মাধ্যমে একটা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোন গড়ে তুলছে এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক অপরিহার্য অবস্থা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা জাতীয় চিন্তাকে ধীরে ধীরে পেছনে ঠেলে দিবে এবং আন্তর্জাতিক বিবেচনাকে বড় করে তুলবে। জাতিসংঘের পিছনে 'নাটের গুরু' যারা, তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই 'শূন্য জাতীয়বোধ' অবস্থা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।


এভাবেই পৃথিবীর আজকের শক্তিমানরা জাতিসংঘের ছায়ায় দাড়িয়ে জাতিসংঘকে নতুন এক বিশ্বরূপ দিতে চাচ্ছে। জাতিসংঘের জননন্দিত সেক্রেটারি জেনারেল দাগ হ্যামার শোল্ড বলেছিলেন, জাতিসংঘকে হতে হবে 'বিশ্ব সংস্থা', 'বিশ্ব সরকার' নয়। সে হবে উন্নয়ন ও শান্তির সহায়তাকারী। কোনক্রমেই জাতিসমূহের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কোন সিস্টেমের ডিক্টেশনকারী নয়। কিন্তু জাতিসংঘকে আজ রাষ্ট্রসমূহকে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রিত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্বের দুর্বল জাতি সমুহের মত মুসলমানদেরকেও একবিংশ শতকের এই জটিল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

বিশ্বে এক অর্থনীতি ও এক রাজনীতির মত গোটা বিশ্বকে এক সংস্কৃতির অধীনে আনারও দুর্দান্ত প্রয়াস চলছে। এই লক্ষে দুনিয়ার মানুষের জন্য একক এক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ কাজ করছে। তারা চাচ্ছে গোটা দুনিয়ার জন্য মূল্যবোধের একক একটি মানদন্ডনির্ধারণ করতে। এই মানদন্ডের নাম দেয়া হচ্ছে 'সেক্যুলার হিউম্যানিজম'। জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত দলিল দস্তাবেজে এই তত্ত্ব দাঁড় করানো হচ্ছে যে, মানবাধিকার সকলের উর্ধ্বে। জাতীয় ধর্ম, জাতীয় সংস্কৃতি, জাতীয় ঐতিহ্য ইত্যাদি অধিকার সবই এর অধীন। এই অধিকারগুলো ততটুকুই ভোগ করা যাবে, যতটুকু 'মানবাধিকার' অনুমতি দেয়। জাতিসংঘের এক দলিলে এভাবে বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক জীবন ও পরিচয়ের বিকাশসহ সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিটি ব্যক্তির জন্যেই স্বীকৃত। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক অধিকারকে সীমাহীন করা যাবে না। যখনই তা মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপকরে তখনই সাংস্কৃতিক অধিকার অচল হয়ে পড়ে। এর পরিষ্কার অর্থ এই যে, সাংস্কৃতিক অধিকার মানুষের মৌল স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। (United Nation Background Note-by Diana Ayten Shenker) এই দৃষ্টিভঙ্গিই জাতিসংঘের নাইরোবী সম্মেলন, কায়রোর জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্মেলন, কোপেন হেগেনের সামাজিক শীর্ষ সম্মেলন, বেইজিং এর বিশ্ব নারী সম্মেলন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে এবং আরও হবে। উদ্বেগের বিষয় এসব সম্মেলনে সুকৌশলে প্রণীত ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ (Secular Humanism) প্রতিষ্ঠার দলিলে অধিকাংশ মুসলিম দেশও দস্তখত করেছে। অথচ জাতিসংঘ প্রচারিত 'ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ' এর তত্ত্ব মেনে নিলে ইসলামকে কেটে ছোট বিকলাঙ্গ করে মসজিদে পুরে রাখতে হবে। তাদের বলা উচিত ছিল, তথাকথিত সার্বজনীন মানবাধিকার আইন নিশ্চিত ভাবেই মানব জীবন, তার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ঐতিহ্য সংরক্ষনকে বিপর্যন্ত ও বিপন্ন করে তুলতে পারে। ইসলামের আদর্শ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কার্যকরভাবে যদি মানব মর্যাদার প্রতিষ্ঠা হয়, সেটাই হয় সত্যিকারের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এই কথা কেউ আমরা বলিনি।

এভাবে অন্য কেউও বলছে না, অন্য জাতি, অন্য ধর্মও নয়। তার ফলে, 'ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ'-ই বিশ্ব সংস্কৃতির একমাত্র মানদন্ডহয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্য কথায় এটাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব সংস্কৃতি।

এর ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা আমাদের ধর্ম পালন করতে পারবো না। উত্তরাধিকার আইনকে বলা হবে মানবাধিকার বিরোধী, শান্তিরআইন অভিহিত হবে বর্বর বলে, পর্দাকে বলা হবে মানবাধিকারের খেলাপ, কুরবানিকে বলা হবে অপচয় ইত্যাদি। এমনকি ইসলামের দাওয়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে মানবাধিকারের পরিপন্থি বলে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোথাও জাতীয় আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠিত হলে তাকে অভিহিত করা হবে মানবাধিকার বিরোধী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে। 'সেকুলার হিউম্যানিজম' প্রকৃত পক্ষে সূদুরপ্রসারী একটা ষড়যন্ত্র। এর লক্ষ্য মানুষকে তার অলক্ষ্যে তার ধর্ম থেকে সরিয়ে নেয়া। মানুষের ধর্ম না থাকলে তার জাতীয়তা ধ্বসে পড়বে। জাতীয়তা ধ্বসে পড়লে তার রাষ্ট্রও ধ্বসে পড়বে। এটাই চাচ্ছে আজকের ছদ্মবেশ নিয়ে দাঁড়ানো বিশ্বনিয়ন্ত্রকরা।

বিশ্বে ধর্মসমুহকে বিশেষ করে ইসলামকে ধর্ম ও সংস্কৃতি বিরোধী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে একবিংশ শতকে।

বিশেষ করে ইসলামকেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, অন্য ধর্মগুলোর কোনটিই মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকরী নয়। সুতরাং তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে না, করতে চাইলেও তারা পারবে না। কিন্তু ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। শুধু ইসলামই তাদের চ্যালেঞ্জ করে টিকে থাকতে পারে। ইসলামের শত্রুরাও এ কথা বলছে। The End History- এর লেখক ফ্রান্সিস ফকুয়ামা কম্যুনিজমের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, 'পাশ্চাত্য ও পাশ্চাত্য চিন্তা ধারার বিজয় প্রমান করছে যে, পশ্চিমা উদারনৈতিক মতবাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সব ব্যবস্থাই আজ খতম হয়ে গেছে'। কিন্তু তিনি আবার বলেছেন, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা একটা হবে ধর্মের সাথে আসছে একবিংশ শতাব্দীতে এবং তাঁর মতে সে ধর্ম 'ইসলাম'।

সুতরাং একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতি যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীতে, মানবতার সামনে, তার মোকাবিলা ইসলামকেই করতে হবে।

আর এ দায়িত্ব বিশ্বের মুসলমানদের। আনন্দের বিষয়, এ দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় জীবনে যে রেনেসাঁর প্রয়োজন সে রেনেসাঁ আজ সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম বিশ্বে। রেনেসাঁর নিশানবর্দার সংগঠনেরও সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম দেশে দেশে। ক্রমবর্ধমান হারে তরুনদের সম্পৃক্ততায় এ সংগঠনগুলো বিকশিত হয়ে উঠছে। ত্যাগ ও কোরবানীর ক্ষেত্রেও রেনেসাঁ-কাফেলার নিশান বর্দাররা পিছিয়ে নেই। আজ গোটা দুনিয়ায় আদর্শের জন্য ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিচ্ছে একমাত্র মুসলমানরাই।

তবে প্রয়োজনের তুলনায় এবং চ্যালেঞ্জের নিরিখে এটুকু যথেষ্ট নয়। এসব কাজকে আরও সংহত ও শক্তিশালী করার জন্য মৌল কিছু বিষয়ে মুসলিম তরুনদের নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। মৌল এই বিষয়কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়.

১. নিজেদের জীবন ব্যবস্থা ও তার ইতিবৃত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানার্জন, কোরআন-হাদীস এবং মহানবীর জীবন সম্পর্কেতো অবশ্যই, ইসলামের আইন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ও সম্যক জ্ঞানার্জন করতে হবে।

২. ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রতিটি মুসলিম তরুনকে তার চারপাশে যা আছে, যা ঘটছে তার প্রতি তীক্ষ্ণ নিরীক্ষনী দৃষ্টি রাখার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব বিষয়ই এ নিরীক্ষনের ক্ষেত্রে তাদের মনে রাখতে হবে, দৃষ্টি-মনোহারীতা নয় সত্যই আসল কথা। আজ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন প্রচারণা জোরে খুব সহজেই মিথ্যাকে সত্য প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এই অবস্থায় গ্রহন বা বর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতিবোধ সামনে রেখে অনুসন্ধান, অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগ্রহন করতে হবে।

৩. তীব্র সাংস্কৃতিক সংঘাতের এই যুগে মুসলিম তরুনদেরকে নিজেদের সাংস্কৃতিক নীতিবোধ ও পরিচয়কে ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। আর্ট-আর্কিটেকচার থেকে শুরুকরে জীবন চর্চার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের চিন্তা ও দর্শনকে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে এবং বুঝতে হবে ইসলামের সাথে অন্য সংস্কৃতিগুলোর মৌল পার্থক্য সমূহ। এই পর্যালোচনার জ্ঞান তাদেরকে নিজেদের এবং অন্যদের অবস্থানকে বুঝতে সাহায্য করবে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমর্থ্য করে তুলবে।

৪. মুসলমানদের বিজ্ঞানের যে পতাকা ৯শ বছর আগে অবনমিত হয়েছিলো এবং সাড়ে ৬শ বছর আগে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, সেই ৪ পতাকার গর্বিত শির আবার উর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য মুসলিম তরুনদের এগিয়ে আসতে হবে।

৫. ইসলাম সকল যুগের সর্বাধুনিক মতবাদ। এ মতবাদকে যুগপূর্ব অচল ভাষা বা কৌশল নয়, যুগশ্রেষ্ঠ ভাষায় যুগোত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু তাহলেই এই আদর্শ যুগ-চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সকল মানুষের ঘরে গিয়ে পৌঁছতে পারবে।

এই করণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলে মুসলিম তরুনরা যে জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক শক্তিতে সজ্জিত হবে তা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মূলতই সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। এই চ্যালেঞ্জর মধ্যে অবশ্যই অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমরশক্তির মত দিকগুলো আছে। তবে এগুলোর অর্জন, অধিকার, ব্যবহার, কার্যকারিতা- সবকিছুই বুদ্ধির শক্তির উপর নির্ভরশীল। কম্যুনিজম রক্ষার সব অস্ত্র সব অর্থ সোভিয়েত ভান্ডারে থাকার পরও বৈরী জ্ঞান ও সংস্কৃতির সয়লাবে যেমন তা শেষ হয়ে গেছে, তেমনি, 'সেক্যুলার হিউম্যানিজম' এবং আগ্রাসী পুঁজি ও আধিপত্য রক্ষার 'গণতন্ত্র' তার ভান্ডারে সব অস্ত্র, সব অর্থ রেখেই শেষ হয়ে যেতে পারে, প্রয়োজন শুধু ইসলামের মহান মানবতাবাদী জ্ঞান ও সংস্কৃতির আধুনিকতম মানের প্রচন্ড এক সয়লাব।

লেখক-
আবুল আসাদ
সম্পাদক, দৈনিক সংগ্রাম 
বই- একুশ শতকের এজেন্ডা